কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রীর সাথেই কয়লা পাচারকারীর ছবি, আক্রমণ তৃণমূলের

বিজেপি | প্রহল্লাদ জোশী | জয়দেব খান : কয়লা মন্ত্রীর সাথে কয়লা পাচারকারীর ছবি কি করে? প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল। 

সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রীর সাথেই কয়লা পাচারকারীর ছবি, আক্রমণ তৃণমূলের। 

কয়লা পাচার কাণ্ডে নতুন মোর। এইবার খোদ কয়লা মন্ত্রীর সাথেই কয়লা পাচারকারীর ছবি প্রকাশ্যে এনে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। প্রসঙ্গত, বারবার এর রাজ্যের শাসক দলকে কয়লা পাচারকাণ্ডে আক্রমণ করেছে বিজেপি। আর সেই বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ উঠে আসতেই হইচই পড়ে গেছে সারা রাজ্যে। বিজেপি বারবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কয়লা পাচার কাণ্ডে জড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আর আজ সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছবি প্রকাশ করে জনগণকে বুঝিয়ে দিল আসল কয়লা পাচারকারী কারা। 

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আজ টুইট করে দুটি ছবি প্রকাশ করেন। সেই ছবিতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রী প্রহল্লাদ জোশি এবং কয়লা পাচারকারী জয়দেব খানকে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই টুইটে জানান, “দাগি কয়লা পাচারকারী জয়দেব খানের সাথে কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রী প্রহল্লাদ জোশি কি করছেন? তিনি  বিজেপির পকেট কি করে ভরা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করছেন? নাকি দেশের সম্পদ বাইরে পাঠানোর জন্য কয়লা মাফিয়াকে বাহবা দিচ্ছে? ইডি বারবারই মন্ত্রী এবং কয়লা মাফিয়ার সংযোগ কে উপেক্ষা করে যাচ্ছে।” 

আর এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়ে গেছে রাজনৈতিক তরজা। চারিদিকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে বিজেপি এতদিন ধরে কয়লা পাচার নিয়ে এত কথা বলেছে সেই বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকারের খোদ কয়লা মন্ত্রীর সাথেই কয়লা মাফিয়ার ছবি? 

এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুনাল ঘোষ সাংবাদিক বৈঠকে এ নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে জানান, “গত বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের এক হোটেলে কয়লা পাচারকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন খোদ প্রহল্লাদ জোশি। জয়দেব খানের মতো দাগি কয়লা পাচারকারীর সঙ্গে কয়লা মন্ত্রী কি করছেন? এরপর কি করে কয়লা পাচার হবে তা নিয়েই কি আলোচনা চলছে, কয়লা মন্ত্রীর সাথে? এখন ইডি-সিবিআই কি করছে? অন্য সমস্ত ক্ষেত্রে তো বারবার অতি সক্রিয়তা দেখা যায় কেন্দ্রীয় এজেন্সি গুলোর কাছ থেকে। এটা নিয়ে কেন তদন্ত করা হচ্ছে না?” 

উল্লেখ্য, কয়লা মাফিয়া জয়দেব খানের বিরুদ্ধে একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অন্ডাল থেকে শুরু করে রানীগঞ্জ এইরকম অনেক থানাতেই কয়লা পাচার করার জন্য জয়দেব খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আর সেই কয়লা মাফিয়া জয়দেব খানের সাথেই প্রকাশ্যে ছবি চলে এলো খোদ কয়লা মন্ত্রীরই। তাহলে কি কেবলমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যই কয়লা পাচার কাণ্ডে তৃণমূলকে বারবার জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়? প্রশ্ন সব সময় থেকেই যায়। ইডি সিবিআই কি এ নিয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে? এখন সেটাই দেখার।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম