হাতে জাতীয় পতাকা থাকলে সবাই দেশপ্রেমী হয় না! কেউ কেউ ধর্ষকও হয়! কেন এমনটা বলছি শুনে অবাক হচ্ছেন তো? আসলে ফেসবুকে বেশ কিছু পোস্ট চোখে পড়লো, যেখানে এই রক্তবর্ণের পোশাক পরিহিত ব্যাক্তির সম্পর্কে বলা হচ্ছে, হাতে ভারতীয় জাতীয় পতাকা নিয়ে লড়াই করছে, সাচ্চা ভারতীয়, লড়াই ওনার রক্তে।
এই প্রসঙ্গে রাখি, এই ব্যাক্তি কিন্তু পুলিশকে চুরি পড়ে থাকার নিদান দিয়েছে। চুরি পড়াকে দুর্বলতা হিসেবে পোট্রে করেছে এই ব্যাক্তি। আমি জানতে চাই বর্তমান যুবসমাজের কাছে, সমাজে নারীদের একটা বৃহৎ অংশ চুড়ি পড়ে, তাই বলে কি তারা দুর্বল? মা দূর্গার হাতেও চুরি থাকে, মা দূর্গাও তাহলে দুর্বল?
শুনে রাখুন, উনি হতে পারেন তীব্র সরকার বিরোধী, তীব্র মমতা বিরোধী, তীব্র প্রতিবাদী ব্লা-ব্লা-ব্লা। তবে তার পাশাপাশি উনি পেট্রিয়ার্কি মানুষিকতার একজন। ওনার মতো পেট্রিয়ার্কি মানুষিকতার লোকজনরা আজও মেয়েদের অন্দরমহলে আর ঘোমটা দিয়ে পর্দার আড়ালে রাখতে চায়। উনি ছাত্রদের লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন সরকার বিরোধী বলেই, তিলোত্তমার বিচার চাওয়া ওনার মূল লক্ষ্য নয়।
ওনার মূল লক্ষ্য তিলোত্তমার বিচার হলে, উনি কখনোই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে চুড়ি পড়া নিয়ে কটাক্ষ করতেন না। উনি সমালোচনা অন্য ভাবেও করতে পারতেন কিন্তু উনি চুড়ির প্রসঙ্গ আনলেন কারণ উনি পেট্রিয়ার্কি মানুষিকতার।
আর জাতীয় পতাকা হাতে আছে, আর তাই নিয়ে জাতীয়তাবাদের পালে হাওয়া দিয়ে লাভ নেই। বাবা রাম রহিমের হাতেও জাতীয় পতাকা ছিল কিন্তু দিনের শেষে রাম রহিম বাবা একজন ধর্ষক, পেট্রিয়ার্কি মানুষিকতার। আবার বয়স্ক, সেই নিয়ে সিমপ্যাথেটিক প্রচার করেও লাভ নেই, কারণ আশারাম বাপু বয়স্ক ও সাধু হওয়ার সত্ত্বেও তিনি একজন ধর্ষক, পেট্রিয়ার্কি মানুষিকতার।
জাতীয় পতাকা নিয়ে লড়ছে তাই কুর্ণিশ করছেন,এই যদি ক্রাইটেরিয়া হয় তাহলে যখন দেশের কৃষকরা দিল্লি বর্ডারে তাদের অধিকার নিয়ে লড়াই করছিল, যখন কেন্দ্র সরকার তাদের ওপর গুলি চালালো, রাস্তায় কাঁটাতার বিছিয়ে রাখল তখন আপনারা কতজন কুর্ণিশ জানিয়েছিলেন? যখন দেশের মহিলা অ্যাথলিটরা তাদের সাথে হওয়া যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ করছিল, তখন কতজন সমর্থন দিয়েছিলেন? কজনের স্ট্যাটাসে তাদের কথা ছিল?
আর হ্যাঁ, এই ব্যাক্তির সঙ্গে ধর্ষকদের তুলনা করেছি কারণ ইনি পেট্রিয়ার্কি মানুষিকতার। উনি যদি ফেমিনিস্ট হতেন তাহলে হয়তো ওনার তুলনা সোনাম ওয়ানচুখের মতো মানুষের সাথে করতাম। শুনে রাখুন সরকারের বিরোধিতা করছেন, করুন কিন্তু তা করতে গিয়ে কখনোই এইসমস্ত পেট্রিয়ার্কি মানুষিকতার লোকজনকে প্রমোট করবেন না। প্রাকৃতিক নিয়মে কোনো একদিন এই সরকার হয়তো থাকবে না কিন্তু পেট্রিয়ার্কি মানুষিকতা সমাজে মহিলাদের অবস্থান উত্তরপ্রদেশ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থানের মতো গোবলয়ের রাজ্যে থাকা নারীদের অবস্থানের মতো করে তুলবে। তাই পেট্রিয়ার্কি মানুষিকতা থেকে সাবধান!
