বাংলার মহারাজ সিংহাসনচ্যুত, আবারও বঞ্চিত বাঙালী! নেতাজি, প্রণব মুখার্জিও বঞ্চিত ছিলেন


বাংলার মহারাজ সিংহাসনচ্যুত, আবারও বঞ্চিত বাঙালী! নেতাজি, প্রণব মুখার্জিও বঞ্চিত ছিলেন

বাংলার মহারাজ সৌরভ গাঙ্গুলীকে BCCI এর সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে আনা হচ্ছে রজার বিনি কে। রজার বিনি ৮৩ বিশ্বকাপ জয়ী একজন ভালো ক্রিকেটার। যদিও সাফল্যের দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলী। অন্যদিকে BCCI সচিব হিসেবে এবারও থেকে গেল ভারতবর্ষের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে জয় শাহ। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, জয় শাহ অমিত পুত্র হওয়ায় কি সচিব হিসেবে রয়ে গেল? 
রাজনৈতিক মহলে শোনা যায়, ২০১৯ সালে বাংলার মহারাজকে ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল খুদ অমিত শাহ। যদিও সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সৌরভ। তারপর ২১শের বিধানসভা ভোটে, যখন BJP মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী পদপ্রার্থী খুঁজে পাচ্ছিল না তখন আবার সৌরভ গাঙ্গুলীকে মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধী পদপ্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেয়। সেবারও অমিত শাহের প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি সৌরভ গাঙ্গুলী।
UNESCO দূর্গাপূজো কে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়ার পর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় UNESCO কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান করে। সেখানে মমতার সাথে সৌরভ গাঙ্গুলীকে একই মঞ্চে দেখা যায়। রাজনৈতিক মহলে শোনা যায়, তারপরই সৌরভ গাঙ্গুলীর ওপর ভীষণ চটে যায় অমিত শাহ এবং সৌরভকে BCCI এর সভাপতি পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
শুধুমাত্র সৌরভ গাঙ্গুলী নয় অতীতেও বহুবার বাঙালী বঞ্চিত হয়েছে। যোগ্যতা থেকেও বহুবার যোগ্য সম্মান পায়নি বাঙালী। বাঙালী বঞ্চনার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। 
স্বাধীনতার আগে নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু কংগ্রেসের সভাপতি পদে নিযুক্ত হয় কিন্তু নেতাজী বেশিদিন সেই পদে আসীন থাকেন পারেননি, ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। গান্ধীজি-নেতাজি দ্বৈরথ সকলের জানা। কিংবা স্বাধীনতা আন্দোলনের পরে ছোটো ছোটো প্রদেশ গুলোকে একত্রিত করে দেশ গঠনে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্যাটেলের বিশাল মূর্তি "The Statue of Unity" গুজরাটে হলেও নেতাজীর বিশাল মূর্তি হয়না। দিল্লিতে ইন্ডিয়া গেটের সামনে নেতাজীর একটি মূর্তি হয় যেখানে দেখা যায় নেতাজী সবাইকে স্যালুট করছে যা নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর দেশের প্রতি আত্মত্যাগ ও বলিদান কে অপমানিত করে বলে মনে করে বিশেষজ্ঞ মহল। 
অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রণব মুখার্জি জায়গায় মনমোহন সিংহ কে প্রধানমন্ত্রী করে। মনমোহন সিংহ ভালো প্রধানমন্ত্রী হলেও, প্রণব মুখার্জির যোগ্যতা কোনো অংশে কম ছিল না বলেই মনে করে বিশেষজ্ঞ মহল। প্রণব মুখার্জিও বঞ্চিত হয়েছিলেন, কারণ তিনি বাঙালী ছিলেন।
একটা বৃহৎ অংশের বিশিষ্টজনরা মনে করে, সৌরভ গাঙ্গুলী বাঙালীর আইকন, বাংলার আইকন, বাংলার মহারাজ। রাজনীতিতে আসার পর মিঠুন চক্রবর্তী ফিল্মস্টার হিসাবে যে সম্মান পেত, এখন আর পায় না। তাই রাজনীতির পাঁকে সৌরভ গাঙ্গুলীকে না জড়ানোই ভালো। তাঁকে রাজনীতিতে এনে তার সমালোচনা করে তার গর্বের ইতিহাসকে কালিমালিপ্ত না করাই ভালো। সৌরভ গাঙ্গুলীকে সৌরভ গাঙ্গুলীর মতো করেই থাকতে দেওয়া উচিত। থাকতে দেওয়া উচিত সৌরভ গাঙ্গুলীকে বাঙালীর আইকন হয়ে, বাংলার আইকন হয়ে, বাংলার মহারাজ হয়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম