সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: “ডিসেম্বরে দরজা খুলে দেবো”- অভিষেকের হুঁশিয়ারিতে অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির।
শনিবার ই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ডিসেম্বরে ছোট্ট করে দরজাটা খুলে দেবো। আমি যদি দরজা খুলে দিই তাহলে বিজেপি উঠে যাবে। শুধু দলের সাধারণ কর্মীদের মূল্যবোধের কথা ভেবে দরজা খুলছি না। কি বলেন? এইবার কি তাহলে দরজাটা একটু ছোট্ট করে খুলে দেবো?”। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের এই মন্তব্যে কর্মী সমর্থকরা সদর্থক উত্তর দিলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, “তাহলে ডিসেম্বরেই ছোট্ট করে দরজাটা খুলে দিই”।
প্রসঙ্গত, ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বারবার উঠে এসেছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বারবার রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে ডিসেম্বরেই সরকার পড়ে যাবে। কিন্তু সেই হুঁশিয়ারিকে কোনোভাবেই পাত্তা দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। আর এইবার তৃণমূল কংগ্রেসের পাল্টা হুঁশিয়ারী, ডিসেম্বর মাসে দরজা খুলে দেবে তারা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের পরেই যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। কোন কোন গেরুয়া নেতা ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেবে তা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত গেরুয়া শিবির।
আজকে কাঁথির সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বক্তব্য, “বাংলার মানুষ মীরজাফরদের মেনে নেবে না”। সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী কে প্রতিটা বক্তব্যে তিনি আক্রমণ করতে ছাড়েননি। একই সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী এবং তার বাবা শিশির অধিকারী কে সাংসদ পদ ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন। তার স্পষ্ট বক্তব্য,“আপনাদের যদি সামান্য মূল্যবোধ থাকে তাহলে আপনারা নিজেদের সাংসদ পদ ছেড়ে দেন”।
উল্লেখ্য, রাজ্য বিজেপিতে ভাঙ্গন অব্যাহত। একের পর এক সাংগঠনিক নেতা ঘাসফুল শিবিরে নিজের নাম লিখিয়েছে। আজকেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার আগে কয়েকজন বিজেপি নেতা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করে। আর সেই সভা থেকেই পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-র হুঁশিয়ারি,“ আমি যদি দরজা খুলে দিই তাহলে বিজেপি উঠে যাবে”। সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন, এখন দেখার বিজেপি তার নিজের দলের ভাঙ্গন কি করে ঠেকায়।
