সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: ধর্ষকদের ছেড়ে কোন ভুল করেনি সরকার সওয়াল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর।
ক্ষমতায় আসার পর মোদি সরকার বেটি পড়াও বেটি বাঁচাও এর স্লোগান দিয়েছিল। কিন্তু গুজরাটে মোদীজি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তার আমলেই ঘটে যায় এক পৈশাচিক ঘটনা। কি হয়েছিল? আসুন জেনে নিই।
২০০২ সাল। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী। গুজরাট জুড়ে তখন দাঙ্গা চলছে। আর সেই দাঙ্গার শিকার হয় অন্তঃসত্ত্বা বিলকিস বানু। অন্তঃসত্ত্বা বিলকিস কে ধর্ষণ করেন ১১ জন। এবং তার সামনেই তার শিশু কন্যাকে পাথরে ছুড়ে হত্যা করে পিশাচ রুপী ধর্ষকরা। পরে বিলকিসের পরিবারের সাতজনকেও হত্যা করে তারা। গুজরাটের নিম্ন আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন তারা এবং আদালত তাদেরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। কিন্তু ১৪ বছর জেল খাটার পরেই দোষীদের পক্ষে গিয়ে বিজেপি চালিত গুজরাট সরকার তাদের মুক্তির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে আবেদন জানায় গত ২৮শে জুন। ১১ ই জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক গুজরাট সরকারের এই আবেদনকে মঞ্জুর করে। ১৫ ই আগস্ট দোষীদের কে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আর এই দোষীদের আগাম মুক্তির সাপেক্ষেই নিজের বক্তব্য তুলে ধরলেন কেন্দ্রের সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশি। তিনি একটি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন যে তিনি এর মধ্যে কোনরকম বেআইনি কাজ দেখতে পাচ্ছেন না। তার মতে আইন মেনেই দোষীদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার দাবি দোষীরা নাকি অনেকদিন জেল খেটেছে এবং জেলে ভালো আচরণ করেছে তাই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরকম একটি পৈশাচিক ঘটনার জন্য যারা দায়ী তাদেরকে কি সত্যিই ক্ষমা করা যায়? প্রশ্ন সব সময় থেকেই যায়।
প্রসঙ্গত, যেদিন দোষীদেরকে ছাড়া হয় সেই দিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লালকেল্লায় নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। যা সত্যিই এদেশের নারীদের জন্য অত্যন্ত হাস্যকর। যে দেশে ধর্ষকদের কোনরকম শাস্তি না দিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয় সে দেশে নারী ক্ষমতায়ন কি সত্যিই সম্ভব?
দোষীদেরকে যেদিন ছেড়ে দেওয়া হয় সেদিন বিজেপির বিভিন্ন নেতারা ধর্ষকদের মিষ্টি এবং মালা দিয়ে সম্মান দেয়। আর এই বিজেপির নেতারাই বারবার নারী সুরক্ষার কথা বলে। এই ধরনের ঘটনা সংবিধানের ১৪ নং ধারায় উল্লেখিত আইন কর্তৃক সমভাবে সংরক্ষিত হওয়ার অধিকার কে কি খর্ব করে না?

