সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক : ইংরেজ আমলে তৈরি দেশের প্রাচীনতম ভবন বা সেতুগুলিতে উঠে মানুষ নিশ্চিন্ত বোধ করেন, কিন্তু ‘আত্মনির্ভর ভারতে’র ব্রিজে ওঠে আতঙ্কে পা কাঁপে, বর্তমানে এমনটাই মনে করছেন অনেকে। গুজরাটের মোরবি জেলার মৎস্য নদীতে ব্রিজ ভেঙে পড়ায় এই প্রসঙ্গ উঠছে। একাধিক প্রশ্ন উঠেছে গুজরাটের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে?
প্রসঙ্গত, গুজরাটে ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৪১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, বহুজনের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সূত্রের খবর মৃতের সংখ্যা প্রায় তিনশো’র বেশি হতে পারে। গুরুতর আহতের সংখ্যাটা প্রায় দুশো’র কাছাকাছি। গোটা দেশ জুড়ে শোকে ছায়া। তার পাশাপাশি সামনে আসছে কাটমানির তথ্য।
গুজরাটে বিজেপি সরকারের দিকে একাধিক প্রশ্ন উঠছে। কয়েক কোটি টাকা খরচা করে প্রাচীন কেবল বৃষ্টিকে সংস্কার করা হয়েছিল সবেমাত্র। তারপর দিন চারেক আগে নতুন করে ব্রিজটিকে কে খুলে দেওয়া হয় দর্শকদের জন্য। তাহলে প্রশ্ন, কি করে ব্রিজটি এভাবে ভেঙে পড়তে পারে? উঠে আসছে কাটমানির তথ্য। তাহলে কি গুজরাটে বিজেপি সরকারের নেতা-মন্ত্রীরা কাটমানি নিয়েছে? যার জন্য ব্রিজটি তে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা যায়নি?
তাছাড়া বিপুল জনতা সেতুটিতে উঠেছিল। কিন্তু তাদের কেন আটকালো না গুজরাটের পুলিশ প্রশাসন? পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় কি নেবে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভুপেন্দ্রভাই প্যাটেল? আরও একটি প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে কোন দুর্ঘটনা ঘটলে বিজেপির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি আসে, গুজরাটেও কি বিজেপির ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি যাবে দূর্নীতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে?
ইতিমধ্যেই ব্রিজ ভেঙে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাছাড়া কেন্দ্র ও গুজরাটের রাজ্য সরকার মৃত ও আহত পরিবারের উদ্দেশ্যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কিন্তু রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, টাকাটাই কি সব? বিজেপি সরকারের দূর্নীতির জন্য ব্রিজ ভেঙে যে মানুষগুলোর জীবন চলে গেল, সেই মানুষগুলোর জীবন কি ফিরিয়ে দিতে পারবে? যাদের জন্য এতগুলো মানুষের জীবন চলে গেল তারা কি আদৌ শাস্তি পাবে? হাজারও প্রশ্ন উঠছে কিন্তু উত্তর অজানা!

