আবারও বিশ্বের দরবারে প্রশংসিত বাংলা! বাংলাকে ৮১২ কোটি দেবে বিশ্বব্যাংক


সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক : আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার বহু সামাজিক প্রকল্প পুরস্কৃত হয়েছে, বিশ্বের দরবারে প্রশংসা কুড়িয়ে নিয়েছে। আবারও একবার বিশ্ব দরবারে সেই সাফল্যের স্বীকৃতি মিলল। এবার বাংলার সামাজিক প্রকল্প গুলি প্রশংসিত ও সম্মানিত হল বিশ্ব ব্যাংকের তরফে।

প্রসঙ্গত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলার মসনদে বছর পর থেকেই একাধিক সামাজিক প্রকল্প চালু করেছেন। রাজ্য সরকার কন্যাশ্রী, যুবশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, খাদ্যসাথী, সবুজসাথী, তপশিলি জাতি সহ আরও অন্যান্য একাধিক প্রকল্প চালু করেছে। বিশ্বব্যাংক এই সমস্ত সামাজিক প্রকল্প গুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেছে। তার পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক এইসব প্রকল্পগুলোকে আরও জনমুখী করে তোলার জন্য প্রায় ৮১২ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দিতে চলেছে বাংলাকে।

চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে তিন দিন ধরে পর্যালোচনা বৈঠক চলেছে এবং সেখানেই বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিরা রাজ্য সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বৈঠক শেষে তারা ৮১২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার সবুজ সংকেত দিয়েছেন। তার প্রথম ধাপ হিসাবে আগামী ডিসেম্বর মাসে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পেতে পারে রাজ্য।

করোনা অতিমারির সময় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের অর্থনীতির হাল ফেরাতে সাধারণ মানুষের হাতে নগদ অর্থ তুলে দিতে বলেছিলেন সরকারগুলোকে। নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদের এই কথায় কেন্দ্র সরকার খুব একটা আমল না দিলেও রাজ্য সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখেছিল। রাজ্য সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের সাধারণ মানুষের হাতে অর্থ তুলে দিয়েছে এবং তার পাশাপাশি প্রকল্পগুলোর সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে রাজ্য সরকার।

যার প্রমাণও হাতেনাতে পাওয়া গেছে, গত করোনা অর্থবর্ষে গোটা দেশের মধ্যে দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে সবথেকে বেশি জিডিপি দিয়েছিল বাংলা। তাছাড়া মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিতে দেশের মধ্যে এক নম্বরে বাংলা। এই হার জাতীয় গড়ের থেকেও বেশি। 

নবান্ন সূত্রে খবর, এই সমস্ত সামাজিক প্রকল্পগুলোর সুফল আরও ব্যাপক ও সংঘটিত হারে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে। তার জন্য প্রয়োজন উন্নত প্রযুক্তির। মূলত সেই কারণেই বিশ্বব্যাংকের এই সহায়তা। আগামী চার অর্থবর্ষে রাজ্য ওই টাকা ব্যবহার করে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করবে।

তাছাড়া বাংলা টেলিমেডিসিন পরিষেবা, জেলাভিত্তিক কৃষির জন্য রাজ্য সরকারের উদ্যোগ দেখে অত্যন্ত খুশি বিশ্বব্যাংক। রাজ্যকে মহিলা শ্রমশক্তি বৃদ্ধি ও প্রবীনদের পরিষেবা উন্নয়নে আরো বেশি জোর দিতে বলেছে বিশ্বব্যাংক। তার জন্য একটা শ্বেতপত্র তৈরি করে দেবে বিশ্ব ব্যাংকের বিশেষজ্ঞরাই এবং শ্বেতপত্র সংক্রান্ত সমস্ত খরচ বহন করবে বিশ্ব ব্যাংক। তবে তা রূপায়নের দায়িত্ব রাজ্যের। বলাবাহুল্য, রাজ্য সরকারের প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের এহেন প্রশংসা, কেন্দ্র সরকারের অহেতুক বিরোধিতা অনেকটাই স্পষ্ট করল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম