Subendhu Adhikari | West Bengal | Election : কেন বারবার নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দেওয়ার কথা বলছে বিরোধী দলনেতা? গণতন্ত্রে আস্থা নেই বিরোধী দলনেতার?
ফের সরকার ফেলে দেওয়ার হুমকি দিল রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এর আগেও তিনি রাজ্যের নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দেওয়ার কথা বলেছেন। যা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আজকের সাংবাদিক দের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মহারাষ্ট্র হয়েছে তারপর ঝাড়খন্ড হবে এবং তারপর পশ্চিমবঙ্গ হবে”। রাজ্যে বিরোধী দলনেতার গলায় এইরকম বক্তব্য পুনরায় রাজ্যে সরকার ফেলে দেবার জল্পনাকে উসকে দিল। কিন্তু আদেও একটি রাজ্যের নির্বাচিত সরকারকে এরকম ভাবে কি ফেলে দেওয়া যায়? প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে।
প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারী সহ রাজ্যের অন্যান্য বিজেপি নেতারা এর আগেও সরকার ফেলে দেওয়ার কথা বলেছে। গণতান্ত্রিক উপায়ে লড়াই করতে না পেরে বল প্রয়োগ করে কি তাহলে বিজেপি সরকারের ক্ষমতা আসতে চায়? রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বারবার ৩৫৬ নং ধারার কথাও বলেছে। যা নিয়ে প্রতিবারই প্রশ্ন উঠছে একটি রাজ্যের সরকার টিকে থাকবে কি টিকে থাকবে না তা কি এইবার একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ঠিক করে দেবে? নাকি অন্য উপায়ে বিজেপি সরকার ভাঙতে চাইছে?
উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ টাকার মাধ্যমে এম এল এ কেনা বেচার অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। প্রায় ৫০ কোটি টাকা দিয়ে প্রতি এম এল এ কেনা হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও কি এমনটা করতে চাইছে বিজেপি? যদিও রাজনৈতিক মহলের দাবি পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে করাটা বিজেপির পক্ষে কোনদিনও সম্ভব হবে না। বর্তমানে রাজ্যের শাসক দলের হাতে ২১৭ এরও বেশি এমএলএ রয়েছে। অন্যদিকে বিজেপির হাতে মাত্র ৭০। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বলেছেন, তৃণমূল কংগ্রেস যদি তার দরজা খুলে দেয় তাহলে বিজেপির কাছে হয়তো কুড়িটা এমএলএ পড়ে থাকবে না। তাই যে দলের হাতে একশোর মতো এমএলই নেই সেই দল এমএলএ কেনাবেচা করে সরকার ফেলবে এটা অবান্তর ছাড়া আর কিছুই না।
যদিও, বিজেপি অন্যান্য রাজ্যে এমএলএ কেনাবেচা করে যে সরকার গঠন করেছে এমন উদাহরণ বহু রয়েছে। যার জ্বলন্ত উদাহরণ মধ্য প্রদেশ এবং মহারাষ্ট্র। মধ্যপ্রদেশে বিপুল পরিমাণ টাকার লেনদেন করে সরকার উল্টে দিয়েছিল বিজেপি এমনটাই অভিযোগ উঠেছিল। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে তা করাটা সম্ভব না হলেও এই বিপুল পরিমাণ টাকা বিজেপি কোথা দিয়ে পাচ্ছে তা নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের স্পষ্ট অভিযোগ, বিজেপি গণতান্ত্রিক উপায়ে জিততে না পেরে একটি রাজ্যের নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে। এই অভিযোগ কে সম্পূর্ণভাবে উড়িয়েও দেওয়া যায় না। প্রসঙ্গত, রাজ্যে ৪৮ শতাংশরও বেশি ভোট পেয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এইবার ক্ষমতায় এসেছে। ২০০ পার করে দেবো বলেও বিজেপি আটকে যায় সত্তরের ঘরে। তাহলে কি বাংলার নির্বাচনে পর্যদুস্থ হয়েই হিংসার বসে বিজেপি এ ধরনের মন্তব্য করছে? প্রশ্ন থেকেই যায়।

