মিঠুন,সুকান্তর সামনেই গো ব্যাক স্লোগান বিজেপি কর্মীদেরই, অসস্তিতে গেরুয়া শিবির

বিজেপি | মিঠুন চক্রবর্তী | সুকান্ত মজুমদার: প্রকাশ্যে এলো এবার বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। হঠাৎ কেন গো ব্যাক স্লোগান? 

সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: পঞ্চায়েত নির্বাচনের পূর্বে বাঁকুড়ায় সাংগঠনিক বৈঠক সেরে সবে বেরিয়েছেন বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী ও বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সঙ্গে রয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার। কিন্তু হঠাৎ করেই উঠলো গো ব্যাক স্লোগান কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার এমনই ঘটনা ঘটলো। রুদ্ধশ্বাস বৈঠক শেষ হতেই বিজেপিরই এক কর্মী গো ব্যাক স্লোগান তোলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। ওই বিজেপি কর্মীর নাম দীপক চক্রবর্তী। আর এর পরেই ওই বিজেপি কর্মীর উপর চড়াও হন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সমেত অন্যান্য বিজেপি সমর্থকরা। 

অসস্তিতে পড়ে গেরুয়া শিবির দাবি করেছে, ওই ব্যক্তি বিজেপির কর্মী নয়। শাসকদল চক্রান্ত করেই ওই ব্যক্তিকে পাঠিয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের সাফ বক্তব্য উল্লেখিত ব্যক্তির সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের কোন সম্পর্ক নেই। গো ব্যাক স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিও সরাসরি জানিয়েছেন তিনি বিজেপিরই কর্মী। 

সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে বর্তমানে বাঁকুড়া রয়েছেন বিজেপির বিভিন্ন শীর্ষ নেতৃত্বরা। সেখানেই গঙ্গাজলঘাঁটির দুর্লভপুর মোড়ের একটি লজে বিজেপির মন্ডল নেতৃত্ব এবং রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে সাংগঠনিক বৈঠক ছিল। বেলা দুটোর সময় বৈঠক শেষ হলে বিজেপি নেতৃত্বরা লজ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। এমন সময় বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের সামনেই দীপক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুভাষ সরকারের বিরুদ্ধে গো ব্যাক স্লোগান দিতে থাকেন। হঠাৎ করে ঘটা এইরকম ঘটনায় যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়ে গেরুয়া শিবির। উল্লেখ্য, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মারধোরের অভিযোগ ওঠে অন্যান্য বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুভাষ সরকার ও উপরোক্ত বিজেপির কর্মীর ওপর চড়াও হয়েছিলেন বলে অভিযোগ। যদিও মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভাবে অস্বীকার করেছে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। ওই বিজেপি কর্মী দীপক চক্রবর্তী জানান, “আমি পূর্বে থেকেই বিজেপি কর্মী ছিলাম। এখনো আছি। সুভাষ সরকারকে জেতাবার জন্য যথেষ্ট খেটেছি। কিন্তু জয়ী হবার পর বিজেপি সাংসদ এলাকার জন্য সঠিকভাবে কোনো কাজ করেন। তাই তার বিরুদ্ধে আমি গো ব্যাক স্লোগান দিয়েছি।” 

তৃণমূল কংগ্রেস এ নিয়ে বিজেপিকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি। তৃণমূল কংগ্রেসের গঙ্গাল ঘাঁটি দু'নম্বর ব্লকের সভাপতি নিমাই মাঝি জানিয়েছেন, “বিধায়ক হিসেবে চন্দনা বাউরী এবং সাংসদ হিসাবে সুভাষ সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাই বিজেপির কর্মীরাই এমপির বিরুদ্ধে এইরকম স্লোগান তুলেছে। ওই ব্যক্তি তৃণমূলের কেউ নয়। শাসক দলের সাথে ওই ব্যক্তির কোন রকম সম্পর্ক নেই।” 

পঞ্চায়েত নির্বাচনের পূর্বে গেরুয়া শিবির এই ঘটনায় যথেষ্ট অসস্তিতে পড়বে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত নির্বাচনের পূর্বে খুব একটা ভালো জায়গায় নেই বিজেপি এটা স্পষ্ট। দলের একের পর এক সাংগঠনিক নেতা বিজেপি ছেড়ে যোগ দিয়েছে শাসক দলে। তাই পঞ্চায়েত নির্বাচনের পূর্বে এই ধরনের ঘটনা বিজেপিকে যথেষ্ট ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম