রাজ্য বিজেপিতে আবারও ভাঙ্গন প্রকাশ্যে চলে এলো। যা নিয়ে যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। শুভেন্দু অধিকারীর কেন্দ্র নন্দীগ্রামে ও একের পর এক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে রাজ্য বিজেপিকে।আর এইবার তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি প্রলয় রায়ের পোস্ট ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামে বিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্বে থাকা দুই প্রধান নেতা বেশ কয়েকদিন আগে দল ছেড়েছেন। যা নিয়ে যথেষ্ট অস্বস্তি মুখে পড়তে হয় গেরুয়া শিবির কে। সম্প্রতি নন্দীগ্রামের বটকৃষ্ণ দাস এবং জয়দেব দাস দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে দল ছেড়েছেন। পরে তাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ করতেও দেখা যায় রাজ্য তৃনমূলের সাধারণ সম্পাদক কুনাল ঘোষের সাথে। যা দেখে স্পষ্টতই অনুমান করা যায় আগামী দিনে তারা শাসক শিবিরই যোগ দেবেন। এই বটকৃষ্ণ দাস ও জয়দেবদের হাত ধরেই নন্দীগ্রামে ভোটের ময়দানে নেমেছিল বিজেপি।
আর তার ই মাঝে অস্বস্তি বাড়ালো তমলুক সংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি প্রলয় রায়ের ফেসবুক পোস্ট। বিদ্রোহী গেরুয়া নেতা লিখেছেন, “হৃদয়টা ভেঙে দু-টুকরো হয়ে যাচ্ছে। তবুও নিশ্চুপ, নীরব। ক্ষমা কর বিবেক”।
প্রলয় রায়ের এই পোস্ট ঘিরে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি হল রাজ্য বিজেপিতে। উল্লেখ্য, জয়দেব, বটকৃষ্ণদের এক সময় বিজেপিতে এনেছিলেন এই দাপুটে নেতা প্রলয় রায়। কিন্তু আজ তার সতীর্থরা দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে দল ছেড়েছেন। এখন তিনিও কি তাই করতে চাইছেন? সেটাই এখন দেখার।
প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রামে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দায়িত্বভার কুনাল ঘোষ- র হাতে ন্যস্ত করেছে রাজ্য তৃণমূল। আর তারপরেই একের পর এক চমক দেখতে পেয়েছে রাজনৈতিক মহল। কুনাল ঘোষ সাংবাদিক বৈঠকে এও জানিয়েছিলেন, এটা তো সবে শুরু, এখনো অনেক কিছু বাকি রয়েছে।
রাজ্য বিজেপিতে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে নতুন কিছু নয়। রাজ্যের কেন্দ্রীয় স্তরের নেতারাও বারবার একে অপরের সাথে সংঘাতে জড়িয়েছে। দিলীপ ঘোষ সরাসরি রাজ্য বিজেপি সভাপতিকে অযোগ্য বলে কটাক্ষ করেছে। আবার পাল্টা দিতে ছাড়েননি রাজ্য বিজেপির সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও। সব মিলিয়ে পঞ্চায়েত ভোটের আগে যথেষ্ট অস্বস্তিতে রয়েছে গেরুয়া শিবির।

