উনি ভুলে গেছেন, উনি বিচারকের আসনে বসে আছেন! অভিজিৎ গাঙ্গুলীরকে বেনজির আক্রমণ কুণাল ঘোষের

সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক : “কি করে একজন বিচারপতির আসনে বসে বলতে পারে, দল তুলে দিতে বলব? একটা দল তুলে দিতে বলবে বিচারপতি, এটা হয়? বিচারকের আসনে বসে রাজনৈতিক বক্তৃতা বন্ধ হোক! উনি পথসভা করছেন? ওটা আদালত, স্ট্রিট কর্নার নয়। মনে রাখুন, ওটা আদালতে বসে আছেন আপনি। কেউ বিচারপতি আসনে বসে যদি বলে আমার দলকে তুলে দেবে, আমি মুখপাত্র হিসাবে কি রসগোল্লা খাওয়াবো? আর এই কথাগুলো বলার জন্য, আপনার যা ইচ্ছা করে নিন।”, শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে নাম না করে হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলীকে একের পর এক তীক্ষ্ণ স্বরে বিদ্ধ করে কুণাল ঘোষ।

প্রসঙ্গত নিয়োগ নিয়ে ‘বেনামি আবেদন’ মামলা প্রসঙ্গেই শিক্ষা সচিব মনিশ জৈনকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলী। ক্যাবিনেটের শূন্যপদ তৈরি করা নিয়ে ক্ষুব্ধ বিচারপতি বলেন, “ক্যাবিনেটকে এমন সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে এমন পদক্ষেপ করবো যেটা গোটা দেশে কখন হয়নি।” শুধু তাই নয় বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আমি ইলেকশন কমিশনকে বলব তৃণমূল কংগ্রেসের লোগো প্রত্যাহার করার জন্য। দল হিসেবে তাদের মান্যতা প্রত্যাহার করতে বলবো নির্বাচন কমিশনকে।”

এরপরে শুক্রবার প্রেস কনফারেন্স করে পাল্টা দেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। তিনি বলেন, “বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা আছে। বিচার ব্যবস্থা ঠিক আছে বলেই সমাজ দাঁড়িয়ে আছে। বিচারপতিরা নির্দেশ দিলে মাথা পেতে নেয়। গোটা বিচারব্যবস্থা ন্যায়ের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু কেউ যদি নিজেকে অন্য দেব ভেবে নেন, সেটা দুর্ভাগ্যজনক। সরকারের ভুল হলে নিশ্চয়ই বলবেন। কিন্তু তার জন্য একটা দল তুলে দিতে বলবেন! কেউ যদি বলেন আমার দল তুলে দেবেন, আমি কি তাকে রসগোল্লা খাওয়াবো?”

এদিন কুনাল ঘোষ বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলীর নাম না নিয়ে আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জট খোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাকে বদনাম করতে চাইছেন? আর আপনি হিরো সেজে বলবেন দালাল মুখপাত্র! একটা দল তুলে দিতে বলছেন, এটা হয়? এই ধরনের ব্যক্তিপ্রচার কেন্দ্রিক প্রবণতা কেউ মেনে নেবে না। যখনি জট খোলার চেষ্টা হচ্ছে, তখনই আবার মামলা। একজন মঙ্গলগ্রহ থেকে এসে অরণ্যদেব সাজছেন, আর কেউ কিছু করছে না, এটা ভাববেন না। চেয়ারের সুরক্ষাকবচ নিয়ে রাজনৈতিক এজেন্ডা পূরণ করার চেষ্টা করবেন না। বিচারকের চেয়ারে বসে রাজনৈতিক বক্তৃতা করা বন্ধ হোক।”

কুণাল ঘোষ আরও বলেছেন, “কি করে একজন বিচারপতির আসনে বসে বলতে পারে, দল তুলে দিতে বলব? একটা দল তুলে দিতে বলবে বিচারপতি, এটা হয়? উনি কি পথসভা করছেন? ওটা আদালত, স্ট্রিট কর্নার নয়। মনে রাখুন, ওটা আদালতে বসে আছেন আপনি। আপনি বিচারকের আসনে বসে অপব্যবহার করছেন, নিজের ইমেজ তৈরি করছেন, অবসরের পর রাজনীতি করার জন্য জমি তৈরি করছেন। আর এই কথাগুলো বলার জন্য, আপনার যা ইচ্ছা করে নিন।” ঠিক এভাবেই নাম না করে বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলীর কথার জবাব দিলেন কুণাল ঘোষ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম