পার্থ ঘনিষ্ঠ প্রসন্নের বাড়ি থেকে দিলীপ ঘোষের দলিল উদ্ধার, শুরু রাজনৈতিক তরজা

সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: পার্থ ঘনিষ্ঠ প্রসন্নের বাড়ি থেকে দিলীপ ঘোষের নামের দলিল উদ্ধার, শুরু রাজনৈতিক তরজা। 

রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এইবার নাম জড়ালো বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি দিলীপ ঘোষের। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মিডিলম্যান হিসেবে কাজ করতেন প্রসন্ন রায়। আর এইবার সিবিআইয়ের সিজার লিস্টে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। পার্থর মিডিল ম্যান প্রসন্ন রায়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হল দিলীপ ঘোষের নামের দলিল। আর দলিলটা যে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির ই তা সংবাদমাধ্যমে স্বীকার করে নিয়েছেন স্বয়ং দিলীপ ঘোষ। বিষয়টি সামনে আসতেই তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছে।তৃণমূলের স্পষ্ট অভিযোগ দিলীপ ঘোষ কে যত দ্রুত সম্ভব গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করুক সিবিআই। 

বেশ কয়েকদিন আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান এসপি সিনহাকে আদালতে উপস্থিত করানো হয়। আদালতে বিচারকের উদ্দেশ্যে সিবিআই এর সিজার লিস্ট প্রকাশ্যে আনার দাবিতে সরব হন তার আইনজীবী। চাপে পড়ে কোর্টের নির্দেশে সিবিআই সিজার লিস্ট বার করে। আর সেই সিজার লিস্টের আট নম্বর পয়েন্ট দেখেই চক্ষু চড়ক গাছ সবার। সেখানে নাম রয়েছে দিলীপ কুমার ঘোষের জমির দলিলের। সিবিআই এই দলিলটি উদ্ধার করেছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মিডিলম্যান প্রসন্ন রায়ের ফ্ল্যাট থেকে। ওই দলিল অনুযায়ী দিলীপ কুমার ঘোষ এক জৈনক ব্যক্তি সৌভিক মজুমদারের কাছ থেকে ২০২২ সালের ২২ ই এপ্রিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার একটি জমি কেনেন।

এরপরেই শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। চারিদিকে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দলিলে উল্লেখিত দিলীপ কুমার ঘোষ আসলেই কি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি? কিছুক্ষণ পরেই উত্তর সবার সামনে চলে আসে। কারণ দিলীপ ঘোষ স্বয়ং নিজে সংবাদ মাধ্যমে দলিল ব্যাপারে স্বীকারোক্তি করেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি প্রসন্ন রায়ের সাথে একই আবাসনে বসবাস করতেন। বিদ্যুতের সংযোগ সংক্রান্ত কাজকর্মের জন্য তিনি তার দলিলটি তাকে দিয়েছিলেন। তিনি এও জানান, তার আগে থেকে যদি জানা থাকতো তাহলে তিনি তা দিতেন না। আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন। বিদ্যুৎ সংযোগ সংক্রান্ত কাজকর্মের জন্য কেন দিলীপ ঘোষ এরকম একটি দুর্নীতি পরায়ণ ব্যক্তিকে তার দলিল দিলেন? তাহলে কি এখানে কোন রহস্য রয়েছে?

দিলীপ ঘোষের এই ব্যাখ্যা কে কার্যত নাৎসাত করে দিয়েছে তৃণমূল। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুনাল ঘোষ সরাসরি অভিযোগ করে জানান, “সিবিআইয়ের এই সিজার লিস্ট প্রথমে গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে। আদালতে একজন অভিযুক্ত আইনজীবী সাওয়াল করার পর আদালতের নির্দেশে সিবিআই তার সিজার লিস্ট সামনে এনেছে। সিবিআই এতদিন ধরে কেন সিজার লিস্ট সামনে আনেনি? যার বিরুদ্ধে বিজেপির এত অভিযোগ, তার বাড়িতে কি দিলীপ ঘোষের জমির দলিল কি করে উদ্ধার হয়? অবিলম্বে দিলীপ ঘোষ কে গ্রেফতার করতে হবে। কথায় কথায় তৃণমূলের বিভিন্ন নেতা মন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করে সিবিআই। তাহলে কেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি দিলীপ ঘোষ কে গ্রেপ্তার করা হবে না? তৃণমূল হলেই গ্রেপ্তার আর বিজেপি হলে গ্রেপ্তার করা যাবে না? যত দ্রুত সম্ভব দিলীপ ঘোষ কে জেরা করুক সিবিআই”। 

প্রসঙ্গত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বারবার বিজেপি তৃণমূলকে আক্রমণের তীরে বেধেছে। আর আজ হঠাৎ সিবিআই এর সিজার লিস্ট বেরোতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যে বিজেপি এতদিন ধরে দুর্নীতি নিয়ে বারবার তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করছে, আজ সেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির দলিল,নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত একজন ব্যক্তির কাছ থেকে কি করে উদ্ধার হচ্ছে? এ বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম