সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: অপমানিত শুভেন্দু?রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত বিরোধী দলনেতা, তীব্র আক্রমণ কুনাল ও দেবাংশুর।
রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির পারদ উর্ধ্বক্রমে। রাজ্যপালের শপথ অনুষ্ঠানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কে আমন্ত্রণ জানানো হলেও উপস্থিত থাকলেন না তিনি। বসার চেয়ার নিয়ে তার প্রধান আপত্তি। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুনাল ঘোষ এ নিয়ে আক্রমণ করতে ছাড়েন নি বিরোধী দলনেতাকে। রাজ্য যুব তৃনমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু ভট্টাচার্য ও শুভেন্দু অধিকারী কে তীব্র আক্রমণ করেছেন।
আজ সকালে পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস শপথ বাক্য পাঠ করেন। তার শপথ বাক্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অনেক বিশিষ্টরা। তালিকায় মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে বামফ্রন্ট নেতা বিমান বসুরও নাম ছিল। সেই তালিকায় নাম ছিল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও। কিন্তু বসার আয়োজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সেখানে তিনি উপস্থিত হননি। প্রথমে টুইটে এবং পরে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরকে আক্রমণ করেন রাজ্যের বিরোধী দল নেতা।
বিরোধী দলনেতা টুইটে পোস্ট করে জানান, তার বসার চেয়ার বিজেপি ত্যাগী দুই বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী ও বিশ্বজিৎ কুন্ডুর পাশে করা হয়েছিল। সেই কারণেই তিনি রাজ্যপালের শপথ বাক্য অনুষ্ঠানে যাননি। তার অভিযোগ, রাজ্যপালের শপথ বাক্য অনুষ্ঠানে ওই দুই বিধায়ক এর পাশেই কেন তার চেয়ার দেওয়া হল। তার আরও অভিযোগ ইচ্ছা করেই তৃণমূল সাংসদদের পিছনে তাকে বসবার ব্যবস্থা করিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এই সামান্য বিষয় নিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতার এইরকম কেন আচরণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিষয়টিকে নিয়ে কুনাল ঘোষ এর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি তীব্র আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা কে। কুনাল ঘোষ স্পষ্ট বলেন, “চরম অসৌজন্যতার প্রতীক, রাজ্যপালের শপথ বাক্য অনুষ্ঠান নিয়ে ও রাজনীতির কি আছে? ও যেই কাজ করেছে তাই জন্য হীনমান্যতায় ভুগছে। বেইমানি করেছে তাই কি করে সবার সামনে দাঁড়াবে তাই ও ভেবে পাচ্ছে না”।
অন্যদিকে, রাজ্য যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু ভট্টাচার্য তার ফেসবুক পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী কে আক্রমণ করে লিখেছেন, “পাপিষ্ঠ সর্বদা পুণ্যের মুখোমুখি হতে ভয় পায়। শপথ অনুষ্ঠানে এলে ওই মহিলার সামনে দাঁড়াতে হত! মনে পড়ে যেত তাঁর পিঠে ছুড়ি মারার কথা, লোডশেডিং করে সেই মহিলাকে অসদুপায়ে হারানোর কথা। মনে পড়ে যেত মনের মধ্যেকার উচ্চাকাঙ্খা ও কৃতজ্ঞতা বোধের যুদ্ধে, লোভ বশবর্তী হয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষার জিতে যাওয়ার কথা। মহিলার মুখোমুখি হলে হয়তো পাপবোধ ছিড়ে খেত তাকে! তিলে তিলে সাধারণ কর্মী থেকে নেতা হিসেবে গড়ে তোলা ওই মাতৃসম নেত্রীর বিরুদ্ধে কটু থেকে কটুতর ভাষার প্রয়োগ, হয়ত তাকে অনুশোচনার আগুনে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিত। মনে পড়ে যেত এমন অনেক কথা.. মনের মধ্যে জ্বলে উঠত এমন অনেক পাপবোধের আগুন!তাই সেই মানসিক দ্বন্দ্ব থেকে রক্ষা পেতে, বিভিন্ন অছিলায় তিনি এবারও তাঁর মুখোমুখি হলেন না... হয়তো আগামীতেও হবেন না”।
যদিও সামান্য বসাকে কেন্দ্র করে রাজ্য বিরোধী দলনেতার এহেন আচরণ আদেও কি সমর্থনযোগ্য? প্রশ্ন সব সময় থেকেই যায়।


