সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক : কোথায় বেকারত্ব? কোথায় মানুষের দুর্দশা? শুধুমাত্র কেন্দ্র সরকারই নাকি প্রতি মাসে ১৫০০ লক্ষ চাকরি দিচ্ছে। মঙ্গলবার ঠিক এমনটাই দাবি করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি দাবি করেন, বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দার প্রকোপ দেখা গেলেও, ভারতে সে প্রভাব পড়েনি। কিন্তু এই দাবি সম্পূর্ণ অবাস্তব ও হাস্যকর দাবি মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মঙ্গলবার রোজগার মেলা দ্বিতীয় সংস্কারের মঞ্চে এসেছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে রেলমন্ত্রী দাবি করেন, বিজেপির সর্বদা দেশকে এগিয়ে রাখার নীতি, আমাদের সব সমস্যা কাটিয়ে এগিয়ে চলতে সাহায্য করছে। যারা দেশকে এগিয়ে রাখে তাঁদের কোনও সমস্যায় পড়তে হয় না।
রোজগার মেলার মঞ্চে অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, “বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দার মধ্যেও ভারত শক্তির উৎস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। এখন মাসে ১৫-১৬ লক্ষ চাকরি তৈরি করছে কেন্দ্র সরকার।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দাবি করেন, মোদী সরকারের নীতিতে সমাজের সব শ্রেণীর মানুষ ভালো আছে।
যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এহেন দাবির সাথে বাস্তবের মিল পাওয়া যায় না। কারণ কয়েকদিন আগেই রোজগার মেলার প্রথম পর্বের শুরুতে খোদ প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “আগামী এক বছরে সরকার ১০ লক্ষ কর্মসংস্থানের টার্গেট নিয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী নিজেই যেখানে এক বছরে মাত্র ১০ লক্ষ সরকারি চাকরি দেওয়ার দাবি করছেন, সেখানে তাঁরই মন্ত্রী মাসে ১৬ লক্ষ চাকরির দাবি করছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে মোদী না মোদীর মন্ত্রী, কে সত্য বলছে তা নিয়ে? এবং তথ্য বিকৃত হচ্ছে বলে, মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তাছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টে পরিষ্কার হচ্ছে, প্রতিবছর ভারতবর্ষে বেকারত্ব বাড়ছে। ভারতবর্ষে অর্থনৈতিক অবস্থা একেবারে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। বর্তমানে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হারের থেকে অনেকটাই কম। ফলে মোদীর মন্ত্রীর দাবি, ‘মোদী জমানায় দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে’, মোদির মন্ত্রীর এহেন আজগুবি দাবিকে হেসে উড়িয়ে দিচ্ছে রাজনৈতিক মহল।
