আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে আদেও প্রার্থী দিতে পারবে বিজেপি? ক্রমশ চিন্তার ভাঁজ বাড়ছে গেরুয়া শিবিরের কপালে। কিন্তু এমন পরিস্থিতির মধ্যেও বারো দফা সংকল্প পত্র প্রকাশ করল গেরুয়া শিবির। সংকল্প পত্রে প্রতিটি পঞ্চায়েতে একটি করে চিকিৎসালয় স্থাপন করার কথা বলা হয়েছে। গত শুক্রবারই বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার সংকল্প প্রকাশ করার কথা স্বীকার করে নেন। বিজেপি বেশিরভাগ আসনি প্রার্থী দিতে পারবে কিনা সে বিষয় এখনও পরিষ্কার নয়। আর এমন পরিস্থিতিতে সংকল্পপত্র প্রকাশ করা বিজেপির ক্ষেত্রে কতটা বাস্তবসম্মত হবে তা নিয়ে চিন্তিত অভিজ্ঞ মহল।
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শক্তি হারিয়েছে গেরুয়া শিবির। অনেক সংগঠনিক নেতাও দল ছেড়েছে। রাজ্য থেকে কেন্দ্র সব স্তরের বিজেপি নেতারা আসলেও দলের ভাঙ্গন কেউই রুখতে পারিনি। শুভেন্দুর নির্বাচনী কেন্দ্রেও দল ছেড়েছে তাবড় তাবড় সংগঠনিক নেতারা। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রত্যেকটি আসনে প্রার্থী দেওয়াই বিজেপির কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর আগামী বছরের এপ্রিল মাসেই হতে চলেছে পঞ্চায়েত নির্বাচন। তৃণমূল কংগ্রেস জোড় কদমে মাঠে নেমে পড়েছে। জেলায় জেলায় বৈঠক শুরু করে দিয়েছে। রাজ্য বিজেপি ও চাইছে তার সংগঠনকে শক্তিশালী করতে। কিন্তু হচ্ছে কই? প্রত্যেকটি পঞ্চায়েত আসনে বিজেপিকে যদি প্রার্থী দিতে হয় তাহলে প্রার্থী সংখ্যা হতে হবে এক লক্ষেরও বেশি। তার ওপর সংরক্ষণের জন্য প্রার্থী তো রয়েইছে। এমন অবস্থায় আদেও কি বিজেপি সব আসনে প্রার্থী দিতে পারবে? বিজেপি যে সব আসনে প্রার্থী দিতে পারবে না তা মেনে নিয়েছে রাজনৈতিক মহল। যদিও রাজ্য বিজেপির সভাপতি তা মানতে নারাজ।
বেশ কয়েকদিন আগে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ ও বলেছিলেন, পঞ্চায়েত ভোটেও খুব একটা ভালো ফল করতে পারবে না বিজেপি। আর রাজ্য বিজেপির মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যথেষ্ট হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যদি প্রত্যেকটি পঞ্চায়েতে প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হয় বিজেপি তাহলে সে ক্ষেত্রে যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়তে হবে গেরুয়া শিবির কে। রাজ্যের শাসক দল ও বার বার বিজেপিকে আক্রমণ করেছে এই নিয়ে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাফ বক্তব্য, যারা পঞ্চায়েত নির্বাচনে সম্পূর্ণ প্রার্থী দিতে পারে না তারা পঞ্চায়েত নির্বাচন জেতার দিবা স্বপ্ন দেখছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে কি হয় সেটাই এখন দেখার!

