তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই সময় আমেরিকার বিখ্যাত জন হকপিন্স হাসপাতালে রয়েছেন। প্রসঙ্গত ২০১৬ সালের ১৮ই সেপ্টেম্বর মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক সভা থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি। তার ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বা চোখের নীচের হাড় ভেঙে যায়। এরপর তিনি তার চোখের অপারেশন দুবাই, সিঙ্গাপুর বিভিন্ন জায়গায় করান। কিন্তু সুরাহা মেলেনি কোথাও।সব মিলিয়ে মোট ৬ বার তার চোখে অপারেশন হয়েছে। ক্রমেই বা চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে আসছিল। এরপর ২০২০ সালে চোখের চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু বিশ্বব্যাপী কোভিড মহামারীর জন্য তা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব অনেকটাই করোনা মুক্ত। তাই তিনি নিজের চোখের চিকিৎসার জন্য ছুটে যান আমেরিকায়।
তৃণমূল সূত্রে খবর পাওয়া গেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর চোখের চিকিৎসা করেছেন বিখ্যাত আই সার্জেন নিকোলাস মেহনী। যেহেতু তার চোখের দৃষ্টিশক্তি ও ক্রমশ কমে আসছিল তাই দৃষ্টিশক্তি পুনরায় ভালো করার জন্যও চিকিৎসা চলছিল। সেই চিকিৎসা করেছেন ডাক্তার ডেভিড গাইটন।
ডেভিড গাইটন জানিয়েছেন তিনি তার ৪৮ বছরের জীবনে কখনো এইরকম জটিল কেস দেখেননি। অপারেশনের সাফল্যতা নিয়েও যথেষ্ট সন্ধীহান ছিলেন ডেভিড গাইটন। কিন্তু ভারতের মতো বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের একজন তরুণ সাংসদ- র দৃষ্টিশক্তি পুনরায় ভালো করার জন্য তিনি এই অপারেশনের ঝুঁকিটি নেন। গত ১২ ই অক্টোবর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের চোখে দুটি অপারেশন হয়। টানা সাড়ে পাঁচ ঘন্টা ধরে অপারেশন চলে বলে সূত্রে খবর। অবশেষে ডাক্তারদের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের পরে ১৯ এই অক্টোবর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কে বাড়ি ফিরে যাবার অনুমতি দেয় ডাক্তাররা। ডাক্তাররা এও জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টিশক্তি ক্রমশই ভালো হচ্ছে।
তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে, আমেরিকায় অবস্থানকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সর্বক্ষণ ছিলেন তার স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ তথা রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন। গত শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কালীপুজোর আগেই কলকাতা ফিরে দলীয় কাজে অংশগ্রহণ করবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কালী পুজোতেও তিনি অংশগ্রহণ করবেন। তবে তিনি যোগ্যে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। কারণ ডাক্তাররা পরামর্শ দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এর চোখ যেন কোনরকম তাপের সংস্পর্শে না আসে।

