এবার বিজেপিতে বড়সড়ো ভাঙ্গন দেখা গেল রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কেন্দ্র নন্দীগ্রামে। গত শনিবারই বিভিন্ন স্তরের বিজেপি নেতারা একের পর এক ইস্তফা দিলেন। বিজেপি ছেড়ে দেওয়া নেতাদের তালিকায় রয়েছে ব্লক সভাপতি থেকে শুরু করে অঞ্চল সভাপতি সকলেই। যার ফলে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের পূর্বে বড়সড় ধাক্কা খেলো বিজেপি।
বিদ্রোহী নেতাদের অভিযোগ- যাদের বিরুদ্ধে তারা এতদিন যাবত লড়াই করে আসলো, আজ তারাই শুভেন্দু অধিকারীর মাধ্যমে বিজেপিতে যোগদান করে তাদের ওপর জোর খাটাচ্ছেন। তারা সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দেন যে তারা বিজেপি ছাড়লেও, অন্য কোনো দলে যোগদান করার চিন্তাভাবনা নেননি। বিদ্রোহী নেতা বটকৃষ্ণ দাস স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে তিনি কোন রকম চোর নেতার দ্বারা পদ পাননি, এবং কোন চোর নেতার গোলামিও করতে পারবেন না।
উল্লেখ্য, দল বিরোধী কাজ করার জন্য বিদ্রোহী নেতা বটকৃষ্ণ দাস কে শোকজ করেছিল বিজেপির জেলা নেতৃত্ব। ১৫ই অক্টোবর বিজেপি দলের যে বিজয়ী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল সেই সম্মেলনীতেও দেখা যায়নি এই সমস্ত বিদ্রোহী নেতাদের। সূত্রের খবর শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ট বেশ কিছু নেতার কারণেই তাদেরকে এই অনুষ্ঠানে ডাকা হয়নি।
এই সমস্ত বিদ্রোহী নেতাদের এক সুরে বক্তব্য, বিজেপি তাদেরকে অবজ্ঞার চোখে দেখছে এবং তাদের স্পষ্ট অভিযোগ এতদিন যাবত যাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তারা দল করে এলো আজ তারাই দলে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
বস্তুত বিজেপিতে বিদ্রোহ নতুন কিছু নয়। রাজ্য বিজেপিতে যে এক ধরনের ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে তা বিভিন্ন নেতাদের বক্তব্য দেখলেই বোঝা যায়। বেশ কয়েকদিন আগে বিজেপি নেতা সৌমিত্র খা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। জবাব দেন সুকান্ত মজুমদার ও।যার ফলস্বরূপ বিজেপির মধ্যে এক বিশৃংখল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আর নতুন করে শুভেন্দু অধিকারীর কেন্দ্র নন্দীগ্রামে এই ভাঙ্গন যথেষ্ট অস্বস্তির সৃষ্টি করবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
