মোদী জমানায় বাড়ছে শ্রমিক ছাঁটাই, কমছে মজুরি, কাজের অভাবে পরিযায়ী শ্রমিক গ্রামে ফিরছে


সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক : ভারতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হল গ্রাম। ফলতঃ গ্রামের অর্থনীতি যত সুদৃঢ় হবে ততই ভারতীয় অর্থনীতিতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কিন্তু মোদি জমানায় গ্রামীণ অর্থনীতির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়েছে, বলছে সরকারি রিপোর্ট।

বর্তমানে খাদ্য দ্রব্য থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় দব্যের মূল্য বৃদ্ধিতে আমজনতা নাজেহাল হয়ে পড়েছে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে কারখানাগুলোতে শ্রমিক ছাঁটাই এবং শ্রমিকদের মজুরি কমে যাওয়া। সেই কারণে দলে দলে শহর থেকে গ্রামে ফিরতে শুরু করেছে, অভিবাসি শ্রমিকরা।

ভারতবর্ষে করোনা পরিস্থিতি এবং লকডাউনের জন্য অর্থনীতি একেবারে ধংস হয়ে গিয়েছিল। প্রায় দেড় বছর লেগে গিয়েছিল, সেই পরিস্থিতি বদল হতে। কিন্তু বিগত তিন মাসে ছবিটা ফের বদলে গিয়েছে। কাজের খোঁজে গ্রামের মানুষ শহরে যাওয়ার বদলে শহরের মানুষ গ্রামে ফিরছেন। যার ফলে সিঁদুরে মেঘ দেখছে মোদি সরকার।

প্রসঙ্গত, আগস্ট থেকেই একশ দিনের কাজের চাহিদা বাড়ছিল এবং গত দু মাসে ১০০ দিনের কাজে প্রায় ১০ শতাংশ আবেদন বৃদ্ধি পেয়েছে। আগস্টে ১০০ দিনের কাজে আবেদন করা পরিবারের সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় কোটি। সেপ্টেম্বরের সংখ্যাটা ১ কোটি ৬২ লক্ষ পেরিয়ে গিয়েছে। অক্টোবরের প্রথম ১৫ দিনে যে আবেদন এসেছে তাতে মনে করা হচ্ছে নতুন রেকর্ড তৈরি হবে। যার অর্থ শহরাঞ্চলে কাজের অভাব।


তাছাড়া আরও একটা ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে, সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, মহিলা ও অপেক্ষাকৃত তরুণ সমাজ অনেক বেশি বেশি করে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে চাইছে। যেটা প্রমাণ করে, পরিবারের কর্তার রোজগার করেছে। যাঁর জন্য পরিবারের অন্যান্য সদস্যকে, সংসার চালাতে এগিয়ে আসতে হচ্ছে।

মূল্যবৃদ্ধি কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সিতারমন মূল্যবৃদ্ধি কমার কথা বললেও, RBI জানিয়ে দিয়েছে, আগামী তিন-চার মাস মূল্যবৃদ্ধি কমার কোনও সম্ভাবনা নেই। ফলতঃ আমজনতার সংসারে আগামী দিনেও যে অর্থাভাব বজায় থাকবে, তা স্পষ্ট হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম