সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক : কেরালা রাজ্য সরকার ও রাজ্যপালের সংঘাতে আগুন ধিক ধিক করে জ্বললেও, এবার মারাত্মক আকার নিল উপাচার্যের পদত্যাগের নির্দেশকে ঘিরে। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন অভিযোগ করেন, রাজ্যপাল রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন এবং বলেন রাজ্যপাল আরএসএস-এর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছেন।
প্রসঙ্গত রবিবার কেরালার নটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের পদত্যাগ করা নির্দেশ দিয়েছিলেন কেরালার রাজ্যপাল আরিস মোহাম্মদ খান। রাজ্যপালের এহেন নির্দেশের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, রাজ্যপালের এই নির্দেশ দেওয়ার অধিকার নেই। তিনি সংবিধান এবং গণতন্ত্রের মৌলিক অধিকারের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করছেন।
কেরালার বাম সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্রকে সমর্থন করে এমন কেউ এই ধরনের প্রবণতা মেনে নিতে পারেন না। রাজ্যপাল আরএসএস-এর এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন।”তিনি আরও বলেন, রাজ্যপাল আরিফ মোহাম্মদ খানকে প্রত্যাহার এবং তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয় আচার্য পর থেকে অপসর্গের জন্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূর কাছে আবেদন করবে কেরল সরকার।
রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলন করে সিপিএম এবং সিপিআই এর দুই নেতা এমভি গোবিন্দন এবং কানম রাজেন্দ্রন প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্যপাল কে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পথ থেকে সরাতে বিধানসভায় বিল আনতে চলেছে কেরালার বাম সরকার। পাশাপাশি ১৫ই নভেম্বর, কেরালার রাজভবন ডাক দিয়েছেন বামেদের জোট-শরিকরা।
অনেকেই আবার কেরালা রাজ্যপাল এবং রাজ্য সরকারের এই টানাপড়েন এবং সংঘাত নিয়ে বাংলা সাথে তুলনা করছেন, যখন বাংলা রাজ্যপাল ছিলেন যোগদীপ ধনকড়। বাংলায় যোগদীপ ধনকড় রাজ্যপাল থাকাকালীন তৃণমূল সরকার রাজ্যপালকে আচার্য পথ থেকে সরানো সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বাংলা দেখানো পথেই হাঁটলেন বাম শাসিত কেরালা।
সম্প্রতি ইউজিসি নিয়োগ লঙ্ঘন করে কেরালার বাম সরকার উপাচার্য নিয়োগ করেছিল এবং সুপ্রিম কোর্ট এপিজে আবদুল কালাম টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে উল্লেখ করে কেরালার রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান নটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের ২৪শে অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১ টার মধ্যে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরেই বিতর্কে সৃষ্টি হয়। সোমবার, মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এই বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলার পর রাজ্যপাল - রাজ্য সরকার সংঘাতের আগুন তীব্র আকার নেয়।


