প্রায় ২০০ বছর ধরে যে ব্রিটিশরা ভারতকে শাসন করেছিল, আজ সেই ব্রিটেনের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক প্রধান একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত। সারা দেশ যখন দীপাবলীর আনন্দে মেতে উঠেছে ঠিক তখনই ব্রিটেনের নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন ঋশি সুনাক। ব্রিটেনের ইতিহাসে তিনি হলেন প্রথম অ-শ্বেতাঙ্গ প্রধানমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, দলীয় বিদ্রোহের কারণে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন বরিস জনসন। এরপর কিছুদিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন লিস ট্রাস। কিন্তু তার বিভিন্ন আর্থিক নীতির সমালোচনা শুরু করে তার ই দল কনজারভেটিভ পার্টি। পরিস্থিতি বুঝে ব্রিটেনের চ্যান্সেলর কে পদচ্যুত করে নতুন চ্যান্সেলর হিসেবে জেরমি হান্ট কে নিয়োগ করেন তিনি। কিন্তু যাবতীয় রাজনৈতিক চাল বিফলে যায়।ফলস্বরূপ ৪৫ দিনের মধ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন। যার ফলে নতুন করে ব্রিটেনের রাজনীতিতে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। কিন্তু ঋশি সুনাক প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হয়ে সেই অচলাবস্থার অবসান ঘটান।
ব্রিটিশ সংবাদ সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, ব্রিটেনের আইনসভার নিম্ন কক্ষ হাউস অফ কমন্স - এ ৩৫৭ জন এমপির ভোট পেয়েছেন ঋষি সুনাক। অন্যদিকে গতকালই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লিস্ ট্রাস।
২০১৫ সালে রিচমন্ড কেন্দ্রে কনজারভেটিভ পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন ঋষি সুণাক। Winchester কলেজে তিনি পড়াশোনা করেন। তারপর অক্সফোট বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে। পরবর্তীকালে বিবাহ করেন ইনফোসিস এর প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণ মূর্তির কন্যা অক্ষতা মূর্তি কে ।
ঋশি সুনাক যখন সাংসদ হিসাবে প্রথম শপথ গ্রহণ করেন তখন তিনি শপথ নিয়েছিলেন ভগবত গীতার ওপর হাত রেখে। ব্রিটেনের সাংসদদের শপথ নেওয়ার ইতিহাসে যা প্রথম। তার পিতা এবং মাতা উভয়ই ভারতীয় বংশোদ্ভূত। ঋষি সুনাকের দুই মেয়ে ও রয়েছে- কৃষ্ণা এবং অনুষ্কা।
