সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক : আজকে ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। আর্থিকভাবে অনগ্রসর শ্রেণীকে সংরক্ষণের আওতায় আনার পক্ষের রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। এদিন সুপ্রিম কোর্টের ৫ বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছেন, আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনসাধারণের জন্য দশ শতাংশ সিট সংরক্ষিত থাকবে। এই পদক্ষেপকে অসংবিধানিক তকমা দেওয়া যায় না। শীর্ষ আদালতের এই ঐতিহাসিক রায়ের পরে চাকরি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণের সুযোগ পাবেন আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনসাধারণ।
জাতির ভিত্তিতে অনগ্রসরদের জন্য সংরক্ষণ থাকলে, তাহলে কেন আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া অনগ্রসরদের জন্য সংরক্ষণ থাকবে না? এই বিতর্ক বহুদিনের। ২০১৯ সালের সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এই সংরক্ষণ কে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই বিষয় নিয়ে প্রায় ৪০ টি মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। অবশেষে সোমবার এই সংক্রান্ত সমস্ত মামলার রায় দেন শীর্ষ আদালত।
Five-judge Constitution bench of the Supreme Court upholds the validity of the Constitution's 103rd Amendment Act 2019, which provides for the 10 per cent EWS reservation amongst the general category.
— ANI (@ANI) November 7, 2022
Four judges uphold the Act while one judge passes a dissenting judgement. pic.twitter.com/nnd2yrXm0P
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ইউইউ ললিত সহ পাঁচ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে, এই মামলার শুনানি হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজন সংরক্ষণের পক্ষে সওয়াল করেন। তবে প্রধান বিচারপতি অবশ্য এই সংরক্ষণ কে সমর্থন করেননি। সংরক্ষণের পক্ষে থাকা বিচারপতিদের বক্তব্য, সময় সঙ্গে সঙ্গে সংরক্ষণেরও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। তবে প্রধান বিচারপতির মতে, তপশিলি জাতির মধ্যে অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা আর্থিকভাবে দুর্বল। কিন্তু নয়া সংরক্ষণ ব্যবস্থায় তপশিলি জাতির প্রতি অবিচার করা হবে।
সংবিধান সংশোধনের পরে প্রশ্ন উঠেছিল, সংবিধানের তো অনগ্রসর বলতে শুধুমাত্র শিখা ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর কথা বলা হয়েছে। আর্থিক অবস্থা নিয়ে সংবিধানের তো কিছু বলা নেই। তাই এই সংরক্ষণ অসংবিধানিক। এমনও দাবী করা হয়েছিল, কেন্দ্র জেনারেল ক্যাটাগরির জন্য নির্ধারিত আসন কমিয়ে বঞ্চনা করছে। তবে কেন্দ্র জানিয়েছে, জেনারেল ক্যাটাগরির জন্য বরাদ্দ ৫০ শতাংশ আসনের কোন কাটছাঁট হবে না। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর জন্য আলাদাভাবে দশ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হবে।
