বেশ কয়েকদিন আগে বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এর বিরুদ্ধে সোনার দোকানে চুরির অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানার জারি করে আলিপুরদুয়ার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট। যা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় গেরুয়া শিবির কে। একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এইরকম ধরনের গ্রেফতারি পরোয়ানা যথেষ্ট লজ্জা জনক। আর এই আবহেই এইবার বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বার্লার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল কোচবিহারের তুফানগঞ্জ মহাকুমা দায়রা আদালত। যা নিয়ে পুনরায় অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির।
উল্লেখ্য, বিজেপি নেতা জন বার্লার বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছিল ২০১৯ সালে। সেই মামলায় সবাইকে জামিন দিয়ে দিয়েছে আদালত। কিন্তু জামিন পাননি বিজেপি নেতা জন বার্লা। বেশ কয়েকদিন আগে বিজেপি নেতাকে সমন পাঠালেও আদালতে উপস্থিত হননি তারা আইনজীবী কিংবা তিনি। ফলস্বরূপ আদালত নির্দেশ দেয় গ্রেফতারি পরোয়ানা তার বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত, বেশ কয়েকদিন আগে বিজেপি নেতা নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আলিপুরদুয়ারের ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ২০০৯ সালে পরপর দুটি সোনার দোকানে চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামানিক। আর সেই মামলার রায়দান কালে আদালত নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। আর এখন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হল বিজেপি নেতা জন বার্লার বিরুদ্ধে।
২০১৯ সালের বিজেপি নেতা জন বার্লা তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী বিধি কে এড়িয়ে বিডিও অফিস চত্বরে জনসভা করেন । ওই এলাকায় নির্বাচনী বিধি জারি ছিল। ফলস্বরূপ কারোর সেই এলাকায় কোনরকম জনসভা করার অনুমতি ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও বিজেপি নেতা জন বার্লা জনসভার আয়োজন করে। যার ফল স্বরূপ, ওখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশনের আধিকারিক জন বার্লার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। আর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা চলে। ১৫ ই নভেম্বর বিজেপি নেতাকে আদালত সমন পাঠালেও আদালতে হাজিরা দেননি তিনি। আর তাই এইবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল কোচবিহারের তুফানগঞ্জ মহকুমা দায়রা আদালত।
আর একের পর এক বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে গেরুয়া শিবির কে। প্রশ্ন উঠছে, দুজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এইরকম ধরনের গ্রেফতারি পরোয়ানা বিজেপির পক্ষে কতটা ক্ষতিসাধন করবে?

