টিকিট বন্টন কে কেন্দ্র করে হিমাচলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বিজেপির

সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: টিকিট বন্টন কে কেন্দ্র করে হিমাচলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বিজেপির, দল ছাড়লেন রাজ্য সহ-সভাপতি। 

৬৮ টি আসন বিশিষ্ট হিমাচল বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী তালিকা কে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীনন্দ দলের মধ্যে। যা নিয়ে যথেষ্ট অস্বস্তিতে হিমাচলের গেরুয়া শিবির। প্রায় ১২ জন বর্তমান বিধায়কদের টিকিট দেওয়া হয়নি বলে খবর। এমনকি যারা প্রত্যাশিত ছিল টিকিট পাবে বলে, তাদেরকেও টিকিট দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে। যা নিয়ে চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মুখে গেরুয়া শিবির। 

টিকিট বন্টন কে কেন্দ্র করে রাজ্য বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় বিজেপির মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য সামনে চলে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের মনোবল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছে অভিজ্ঞ মহল। যার ফল ভোটে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভোটের থেকে এখন দলকে বাঁচানোই বড় চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে হিমাচল প্রদেশের বিজেপির। দলে ভাঙ্গন রুখতে মাঠে নেমেছেন স্বয়ং বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। কিন্তু তাতে বরফ গলছে কই? বিদ্রোহী বর্তমান বিধায়করা সবাই এককাট্টা। তাদের প্রধান অভিযোগ, নির্বাচনের পূর্বে যারা শুধুমাত্র নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য কংগ্রেস থেকে এসে বিজেপিতে যোগদান করেছে তাদেরকেই টিকিট দিচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। আর এই নিয়েই সুর চড়িয়েছে সেখানকার বিদ্রোহী বিজেপি নেতারা।

প্রসঙ্গত, বেশ কয়েকজন বিধায়ক নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যার ফলে আরও অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। এই সমস্ত বিদ্রোহী বিধায়করা কংগ্রেসের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে বলে অনুমান করছে গেরুয়া শিবির। প্রায় ১৭ জন গেরুয়া বিধায়ক নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের লড়ছে। তাই এই ১৭ টি আসনে বিজেপি বনাম বিদ্রোহী বিজেপির লড়াই। যা যথেষ্ট সুবিধা করে দেবে রাজ্যের বিরোধী দল কংগ্রেসকে।

উল্লেখ্য, হিমাচলে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি কৃপাল পরমারকে বহিষ্কৃত করেছে জেপি নাড্ডা। আর যা নিয়ে আরো বেশি সরগরম সেখানকার রাজনীতি। রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি স্বয়ং নিজে ফতেপুর কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াচ্ছেন। একইসঙ্গে তিনি বিদ্রোহী বিধায়দের আরও বেশি উসকে দিচ্ছেন। যার ফলে, যারা টিকিট পায়নি তারা দল ছেড়ে দিয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। 

হিমাচলে বিজেপির এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নির্বাচনের পূর্বে বিজেপিকে যে বেকায়দায় ফেলবে তা স্বীকার করে নিয়েছে রাজনৈতিক মহল। সব মিলিয়ে, হিমাচলে ভোটের মুখে এই ধরনের ঘটনা বিজেপিকে অনেকটা ব্যাকফুটে ঠেলে দিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম