সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক : এ রাজ্যে যখন সিপিএম শিক্ষা দপ্তরের সামনে টেট ও এসএসসি উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনে গিয়ে দুবেলা কুমিরের কান্না কাঁদছে, সেখানেই বাম শাসিত কেরলে একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার সামনে এলো। কেরলের একটি পুরসভার অস্থায়ী পদে নিয়োগ করার জন্য জেলার নেতাদের পার্টি ক্যাডারদের নাম দেওয়ার সুপারিশ করার আবেদন করেছেন সিপিএমের মেয়র। যা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রসঙ্গত, বাম শাসিত কেরলে শুধুমাত্র দলীয় ক্যাডারদের চাকরি দেওয়া হবে বলে তিরুবন্তপুরমের সিপিএমের মেয়র আর্য রাজেন্দ্রন চিঠি পাঠিয়েছে সিপিএমের জেলা সম্পাদক কে। এরাজ্যেও বাম আমলে অনিলায়ন পর্বে ঠিক এভাবেই চাকরি হয়েছে বলে বহুবার অভিযোগ করে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাম যুবদের এক ছাত্র সমাবেশে এক প্রকার সেই অভিযোগই স্বীকার করে নিয়েছেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। বাম আমলেও বাংলায় ক্যাডারদের চাকরি দেওয়ার জন্য চাপ আসত বলে মেনে নিয়েছেন বিমান বসু।
কেরলের তিরুবন্তপুরমের পুরনিগমের মেয়র আচার্য রাজেন্দ্ররনের একটি চিঠির সামনে আসার পর চাঞ্চল ছড়িয়েছে। সেই চিঠিটি মেয়র সিপিএমের জেলা সম্পাদক কে লিখে জানিয়েছেন, পুরসভা স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বেশ কিছু পদে অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করবে। কর্মীদের নিয়োগ করা হবে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে। সেই পদগুলোতে নিয়োগ করার জন্য জেলার নেতাদের পার্টি ক্যাডারদের নাম সুপারিশ করার জন্য আবেদন করছি।”
অভিযোগ উঠেছে, সেখানে নাকি শুধুমাত্র সিপিএমের ক্যাডারদের সরকারি চাকরি দেওয়া হচ্ছে। যদিও এ ব্যাপারে কেরলের সিপিএম কোনরকম প্রতিক্রিয়া দেয়নি এখনও পর্যন্ত।
বাংলায় নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে দিনরাত গলা পাঠাচ্ছেন এ রাজ্যের বাম নেতারা। ঠিক তখনই বাম শাসিত কেরলে এরকম দুর্নীতি দেখা যাচ্ছে। কার্যতঃ, বাংলায় চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আন্দোলনে সিপিএম নেতাদের অংশগ্রহণ এবং তাদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তাছাড়া শুধুমাত্র পাটি ক্যাডারদের বেছে বেছে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয় বামেদের বিরুদ্ধে। বাম আমলের সরকারি চাকরিতে সিপিএমের ক্যাডারদের নিয়োগ নিয়ে বারবার অভিযোগ উঠেছে। বাম আমলে অনিলায়তনের ঘটনা ছিল জলভাতের মতো। তৃণমূল কংগ্রেস বারবার অভিযোগ করে এসেছে, পরিবারের একজন সিপিএম হোলটাইমার হলে সেই পরিবারে কেউ না কেউ সরকারি চাকরি পেত। সেই অভিযোগের সত্যতা আবারও প্রমাণিত হল, বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

