লেখনী : সুমিত দে
এটাই তাহলে শেষ। কাতারে শেষ বিশ্বকাপ মেসির। জিতলে মেসি জিতবেন, হারলেও মেসি হারবেন। আর্জেন্টিনা নিমিত্ত মাত্র। ফুটবল দলীয় খেলা হতে পারে, কিন্তু এই বিশ্বকাপের মঞ্চে এসে আর্জেন্টিনা যেন আরও বেশি করে মেসিতে বিলীন হয়েছে। আবার অনেকে হয়তো প্রার্থনা করছেন, লিও মারাদোনার জন্য বিশ্বকাপটা যেত। তোমাকে মারাদোনার জন্য বিশ্বকাপটা জিততেই হবে। আর বিশ্বকাপটা জিতে উৎসর্গ করে দাও মারাদোনাকে। আর্জেন্টিনা যেন মেসিময় হয়ে উঠেছে।
মারাদোনা আর বেঁচে নেই, তবে বিশ্বকাপটা মেসি জিতলে, এটাই হবে মারাদোনার প্রতি মেসির শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধার্ঘ্য। সম্ভবত এটাই মেসির শেষ বিশ্বকাপ। লিওনেল মেসির কথা অনুযায়ী তো সেটাই। কাতারেই মেসির শেষ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির ড্রিবলিং জাদু দেখতে পাবে শেষবারের মতো গোটা বিশ্ব। আজ মেসির দিকে তাকিয়ে শুধুমাত্র আর্জেন্টিনা নয় গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা। অনেকেই হয়তো বলছেন, ‘আভি নেহি তো কাভি নেহি।’
ফুটবল নামটা শুনলেই যেমন পেলে মারাদোনা নামটা আসে, ঠিক তেমনি মেসি নামটাও আছে। ফুটবল খেলে যা কিছু জেতা সম্ভব তার সবই জিতেছেন মেসি। সাতবার বিশ্বের সেরা ফুটবলারও হয়েছেন। শুধু বাকি বিশ্বকাপ।
অনেকেই পেলে মারাদোনার সাথে পার্থক্য করে দেয় মেসির। তখন স্বভাবতই প্রসঙ্গ আসে, ওই দুজন বিশ্বকাপ জিতেছেন, মেসি জিততে পারেননি। ক্যারিয়ারের এই একমাত্র অতৃপ্তি ঘোচানোর সুযোগের চাপটা অনেকটা বেশি। কিন্তু মেসি জিততে চায়, আর জেতাতে চায় গোটা বিশ্বের অগণিত ভক্তদের।
২০০৬ বিশ্বকাপের মেসি দলের তরুণ এক সদস্য ছিল। যে ম্যাচে ট্রাইবেকারে হেরে আর্জেন্টিনার বিদায় নিয়েছিল। সেই কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামারই সুযোগ পাননি। কিন্তু পরের চারটি বিশ্বকাপে এসেছেন মেসি দলের প্রাণভোমরা হয়ে, চোখের স্বপ্ন নিয়ে। যে স্বপ্নের সবচেয়ে কাছ থেকে ফিরে আসা স্মৃতি নিশ্চয়ই অহর্নিশ পোড়ায় তাঁকে। মারকানার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোলের স্বপ্ন ভঙ্গের পর হতাশ,বিষন্ন, ভেঙে পড়া মেসির বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ নিতে যাওয়ার দৃশ্যটার মতো করুন কিছু ফুটবলবিশ্ব খুব বেশি দেখেনি।
বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের পর এর চেয়েও আবেগময় দৃশ্য অবশ্য দেখা গেছে। ১৯৯০ ফাইনালে বিতর্কিত পেনাল্টিতে হারার পর মাঠে হাপুস নয়নে কেঁদেছিলেন দিওগো মারাদোনা। যে মাত্র সঙ্গে মিশিয়ে নিত্য তুলনা, সেই মারাদোনার মৃত্যুর পর, এটা প্রথম বিশ্বকাপ। দেশের জার্সিতে কাপ জেতার খড়া কাটিয়েছেন মেসি, কোপা জেতার মধ্য দিয়ে। তবে বিশ্বকাপ হাতে একবার মেসিকে দেখতে, গোটা বিশ্বের অগণিত মেসিভক্তরা।
শুধু মেসির কারণেই আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপজয়ী দেখতে চান, এ পৃথিবীতে এমন মানুষের সংখ্যা অগণ্য। মেসি তো অবশ্যই সেই স্বপ্ন নিয়ে এসেছেন, যদিও মুখে ফেবারিট হিসেবে আর্জেন্টিনার নামটা বলেননি। বলেছেন ব্রাজিল ফ্রান্স আর ইংল্যান্ডের কথাই। হয়তো নিজের ওপর চাপ কমাতেই, এমনটা বলেছেন মেসি। তবে মেসি জিতুক, মেসিকে জিততেই হবে, চাইছে ফুটবল দুনিয়া।
ফুটবল বিশ্বের অগণিত মেসিভক্তরা হয়তো বলছে, লিও মারাদোনার জন্য বিশ্বকাপটা যেত। তোমাকে মারাদোনার জন্য বিশ্বকাপটা জিততেই হবে। আর বিশ্বকাপটা জিতে উৎসর্গ করে দাও মারাদোনাকে। আর সেটা পারলে মারাদোনার প্রতি এটাই হবে শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধার্ঘ্য।
ফুটবল দলীয় খেলা হতে পারে কিন্তু এই বিশ্বকাপে এসে আর্জেন্টিনা যেন আরও বেশি করে মেসিতে বিলীন। জিতলে মেসি জিতবেন, হারলেও মেসি হারবেন। আর্জেন্টিনা নিমিত্তমাত্র।




