সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক : মুখ্যমন্ত্রী মাটির মানুষ। আবারও প্রমাণ করলেন তিনি। ভাত, ওল কচু দিয়ে টেংরা মাছের ঝোল তাতেই মধ্যাহ্নভোজ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিল আলু দিয়ে পোনা মাছের মাথা চচ্চড়ি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মাছের মাথা খেলেন না, আলু দিয়ে ভাত মেখে খেলেন। দুপুরের ভোজন সেরে তিনি বললেন, “ঝাল খাই নাস। তবে দারুন সুস্বাদু খাবার খেলাম।” মধ্যাহ্নভোজের সময় তার মুখে তৃপ্তি সবার নজর কেড়েছিল।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নতুন কিছু নয়। মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরে সেই ছবি আরও একবার স্পষ্ট হল। চায়ের দোকান থেকে মোম স্টল প্রায় সব জায়গায় অনায়াসেই ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। বেশ কয়েকদিন আগেও একটি সাঁওতাল পরিবারের বাড়িতে ঢুকে তাদের হাঁড়ির খবর নিতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। আবার কখনো স্কুলে গিয়ে খুদেদের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন, ফিরে গিয়েছেন নিজের ছোটবেলায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সুন্দরবন অঞ্চলে জনসংযোগের এক অনন্য নজির করলেন তিনি।
নিম্নবিত্ত গৃহস্থের বাড়ির উঠোনে বসে তাদের রোজগার রান্নার পদেই মধ্যাহ্নভোজ সারলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘনিষ্ঠ মহলে কান পাতলে শোনা যায়, স্বাস্থ্য নিয়ে মারাত্মক সচেতন মুখ্যমন্ত্রী। তাই গত ১২-১৩ বছর দুপুরে ভাতই খাননি তিনি। কিন্তু বুঝবার সেই সমস্ত নিয়ম ভাঙ্গলেন। সাধারণ মানুষের মাঝে বসেই দুপুরের ভাত খেলেন তিনি। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী অনুযোগ করেন, ভাতটা শক্ত কেন? সেই সঙ্গে জানতে চান, রেশন থেকে কি এমনই মোটা চাল দেয়? গৃহস্গৃহস্থ পরিবার জানায়, রেশন থেকে এই চালই দেয়। তারপর চালের মান উন্নয়নের পরামর্শ দেন প্রশাসনিক কর্তাদের।
তিন দিনের সফরে সুন্দরবন গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি জনতার সঙ্গে আলাপচারিতাও করলেন তিনি। মন দিয়ে শুনলেন তাঁদের অভাব অভিযোগ। হিঙ্গলগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামে জলের সমস্যা এখনও রয়েছে, বলে জানান এলাকাবাসীরা। সেই সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ সকালে লঞ্চে চেপে নদীর পাড়ের গ্রামে গিয়েছিলেন মমতা। ইছামতি নদীতে লঞ্চ চালাতেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। টাকির খুদেদের এক স্কুলেও গিয়েছিলেন তিনি। সেখানেও বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটিয়েছেন। খুদে পড়ুয়াদের হাতে তুলে দিয়েছেন উপহার।
তারপর সেখান থেকে গিয়ে গ্রামবাসীদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর টাকির গ্রামে বসে মধ্যাহ্নভোজ সারেন। চলে যান আবার টাকি কলেজে। সেখানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, ঐতিহ্যশালী টাকি কলেজের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের জন্য এক কোটি টাকা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে এবারের জেলা সফরে প্রশাসনিক কাজ করার পাশাপাশি বেশ ফুরফুরে মেজাজে দেখা গিয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
