ডাক্তার নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে, শুরু রাজনৈতিক তরজা।

সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: ডাক্তার নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ। শুরু রাজনৈতিক তরজা।

রাজ্যে যখন বিরোধীরা একের পর এক দুর্নীতি নিয়ে শাসক দলকে আক্রমণ করছে ঠিক তখনই বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে ডাক্তার নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় রকমের দুর্নীতির পর্দা ফাঁস করল বিচারপতিরা। মধ্যপ্রদেশের হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কে কে ত্রিবেদির নেতৃত্বে একটি কমিটি এই রিপোর্ট পেশ করে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, কখনো ডাক্তারি পড়েনি এমন বেশ কয়েকজন ব্যক্তির হাতে রয়েছে ডাক্তারির শংসাপত্র। এমনকি নামের আগে তারা নিজেদেরকে ডাক্তার বলে পরিচিত দেবার শংসাপত্র হাতে পেয়েছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। 

মধ্যপ্রদেশের মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় - এ ভুয়ো ছাত্র-ছাত্রীদের ডাক্তারির শংসাপত্র দেওয়া হচ্ছে, এই অভিযোগে গত বছরের ১৬ ই আগস্ট একটি পিটিশন দাখিল করা হয় মধ্যপ্রদেশের হাইকোর্টে। পিটিশন দাখিলকারীদের প্রধান বক্তব্য ছিল, মধ্যপ্রদেশের এই মেডিকেল কলেজে ব্যাপক পরিমাণ দুর্নীতি করা হচ্ছে। ভুয়ো পরীক্ষার্থীদের হাতে ডাক্তারের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে এমনি অভিযোগ করেন তারা। তাদের আরও অভিযোগ ২০১৮-১৯ সালের ডাক্তারের পরীক্ষায় ব্যাপক গরমিল হয়েছে।


মধ্যপ্রদেশের এই মেডিকেল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৯০০রো বেশি নার্সিং ও প্যারামেডিকেল এবং মেডিকেল কলেজ রয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেয় মধ্যপ্রদেশের সর্বোচ্চ আদালত। ২০২১ সালের শেষের দিকে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মোঃ রাফিক এবং বিচারপতি বিশাল ঢগতের নির্দেশে তৈরি হয় পাঁচ সদস্যের কমিটি। প্রসঙ্গত, এই কমিটি গত জুলাই মাসে তার রিপোর্ট পেশ করে। মামলার পরবর্তী শুনানি, ২০২৩ সালের ২রা জানুয়ারি। 

উল্লেখ্য, এরাজ্যে বিজেপি সহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন করে এসেছে। কিন্তু পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায় বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যগুলি এবং একসময় সিপিআইএম শাসিত রাজ্যগুলিও ব্যাপক পরিমাণ দুর্নীতি করেছে। শতাব্দীর সবচেয়ে বড় দুর্নীতি ব্যাপম স্ক্যাম বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশেই হয়েছিল। আবার, ত্রিপুরাতে ১০১২৩ জন যে শিক্ষককে নিয়োগ করেছিল বাম সরকার ২০১৪ সালে সেই শিক্ষক নিয়োগকে ভুয়ো বলে বাতিল করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। আজ সেই সমস্ত শিক্ষকেরা আন্দোলনরত ত্রিপুরাতে। কিন্তু সেই সমস্ত রাজ্যগুলিতে বিজেপি কিংবা সিপিএম কাউকেই তেমন একটা মাথা ঘামাতে দেখা যায় না। তাই পরিশেষে প্রশ্ন থেকেই যায়, যারা দুর্নীতির কথা আজ বলছে তাদের রাজ্যগুলোতেই দুর্নীতির পাহাড় জমছে কেনো?

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম