নন্দীগ্রামে শহীদ বেদীতে আগুন, অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে

সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: নন্দীগ্রামে শহীদ বেদীতে আগুন, অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে।

রাজ্য রাজনীতিতে ফের নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গ। নন্দীগ্রামে শহীদ বেদীতে মাল্যদান কে কেন্দ্র করে তৃণমূল বিজেপির মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ। শুক্রবার সকালে নন্দীগ্রামের তৃণমূলের শহীদ বেদীতে আগুন লাগার ঘটনা সামনে আসে। নন্দীগ্রামের ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি এর জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছে। যার ফলে নন্দীগ্রামকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী।

প্রসঙ্গত গত বৃহস্পতিবার, শহীদ বেদীতে মাল্যদান কে কেন্দ্র করে তৃণমূল বিজেপির মধ্যে যথেষ্ট উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। তৃণমূল কংগ্রেস সুষ্ঠুভাবে মাল্যদান করতে পারলেও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মাল্যদান করতে গেলে নন্দীগ্রামে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তারা সরাসরি অভিযোগ করে, শুভেন্দু অধিকারী তাদের সাথে প্রতারণা করেছে। তাই তারা গদ্দার শুভেন্দু অধিকারী কে এলাকায় ঢুকতে দিতে চান না। যদিও তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুনাল ঘোষ পরিস্থিতির সামাল দেন। তিনি বিক্ষোভকারীদের বোঝান শহীদ বেদীতে সবাই মাল্যদান করতে পারে, আমরা গণতন্ত্রের সপেক্ষে। পরে পুলিশি তৎপরতায় ধর্নারত স্থানীয় বাসিন্দারা উঠে যান।

কিন্তু, শুক্রবার সকালে গোকুলনগরে তৃণমূলের শহীদ বেদীতে আগুন লাগার ঘটনা সামনে আসে। আর এই আগুন লাগার ঘটনা সামনে আসতেই নন্দীগ্রামের ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি সরাসরি বিজেপির উদ্দেশ্যে তীর ছোড়ে। তাদের বক্তব্য, শহীদ বেদীতে মাল্যদান কে নিয়ে বারবার বিজেপি এখানে রাজনীতি করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির তৎপরতায় তারা তা করে উঠতে পারিনি। তাই হিংসার বসে রাতের অন্ধকারে শহীদ বেদীতে আগুন লাগিয়ে দেয় তারা। শহীদ বেদীতে যেভাবে আগুন লেগেছে তা দেখেও অত্যন্ত স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে ইচ্ছা করেই কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। আর এই ঘটনায় যৌথভাবে ধরনায় বসে ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি এবং তৃণমূল কংগ্রেস।

বিকালের দিকে রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কুনাল ঘোষ উপস্থিত হন ঘটনাস্থলে। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এই রকম নক্কর জনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। কুনাল ঘোষ বিজেপির দিকে অভিযোগ করে বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস বারবার সৌজন্যতা দেখাবে, আর বিজেপি মঞ্চ ভেঙে দেবে তা কখনোই সম্ভব নয়। তারা ই ডি সি বি আই ইত্যাদি দিয়ে ভয় দেখাবে আর তৃণমূল কংগ্রেস রসগোল্লা খাওয়াবে? নন্দীগ্রামের আইসি-কে বলব তিনি যত দ্রুত সম্ভব দোষীদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করুন। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া না হলে থানার সামনে ধরনায় বসবে তৃণমূল কংগ্রেস”। 

প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রামে একে একে বিজেপির সাংগঠনিক নেতা দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছে। যার ফলস্বরূপ যথেষ্ট অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে গেরুয়া শিবিরকে। কুনাল ঘোষ নন্দীগ্রামের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চাপে পড়ে গেছে নন্দীগ্রাম বিজেপি। শহীদ বেদীতে মাল্যদান করতে গেলেও স্থানীয় বাসিন্দারা “গদ্দার” স্লোগান তোলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর  বিরুদ্ধে। আর এই পরিস্থিতিতে কেবলমাত্র হিংসার বসে শহীদ বেদীতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া আদেও কি বিজেপির সুবিধা করে দেবে?

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম