সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: ডেঙ্গু মোকাবিলায় ব্যর্থ যোগী সরকার, ভৎসনা করলো হাইকোর্ট।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার। কার্যত হাইকোর্টের ভৎসনার মুখে পড়তে হলো। উত্তরপ্রদেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগ জনক। এলাহাবাদ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, যদি তাদের কাছে নির্দিষ্ট কোন এজেন্সি থাকতো তাহলে তারা সরকারের দেওয়া হলফনামা যাচাই করে দেখতো। উত্তরপ্রদেশের হাইকোর্ট সে রাজ্যের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের এহেন বক্তব্যে নড়ে চড়ে বসেছে যোগী প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, এ রাজ্যেও ডেঙ্গু বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়লেও যথেষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট নয় বিরোধীরা। রাজনৈতিক কারণে বারবার রাজ্যের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আক্রমণ করতে দেখা গেছে বিজেপি সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলিকে। বিশেষত বিজেপি রাজ্যের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তাদের শাসিত রাজ্যে গুলোর কথা উল্লেখ করেছিল। আর সেই বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশেই ডেঙ্গু পরিস্থিতির এইরকম ছবি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল মমতার নেতৃত্বেই ভালো আছে বাংলা।
যদিও, উত্তরপ্রদেশের সরকার তাদের হলফনামায় জানিয়েছে রাজ্যের ডেঙ্গু পরিস্থিতি ততটা উদ্বেগ জনক নয়। রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত বেড রয়েছে। চিকিৎসার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট ব্যবস্থা করেছে সরকার। কিন্তু যোগী সরকারের দেওয়া এই হলফনামায় সন্তুষ্ট নয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দুই বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি সৌরভ শ্রীবাস্তব ডেঙ্গু মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন। ডেঙ্গু মোকাবিলা করার জন্য সরকার যাতে সচেতনতামূলক প্রচার করে তার জন্যও নির্দেশ দেয় বিচারপতিরা।
আর আদালতের তোপের মুখে পড়ে শেষমেশ নড়ে চড়ে বসেছে যোগী আদিত্যনাথ-র প্রশাসন। সেই রাজ্যের সমস্ত নোডাল অফিসারদের নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, যে সমস্ত এলাকায় ডেঙ্গু বেশি ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে সচেতনতামূলক প্রচার যেন চালানো হয়। এছাড়াও মশার লার্ভা যাতে দ্রুত নষ্ট করা হয় সে বিষয়েও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর আজ, তাদের দলের দ্বারা শাসিত রাজ্যেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হলো।

.jpeg)