সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক : প্রকাশ্যে এলো উত্তরপ্রদেশে নিট কেলেঙ্কারি। বদলে গিয়েছে মেধা তালিকায় ৯২৭ জনের নাম। কয়েক কোটি টাকার বিনিময় উত্তরপ্রদেশে ডাক্তারি পরীক্ষার মেধা তালিকায় ৯২৭ জনের নাম বদল হয়ে গিয়েছে, এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০২১-২২ সালের নেট উত্তীর্ণ একদল পড়ুয়া অভিযোগ করেন, আয়ুর্বেদ, হোমিওপ্যাথি ও ইউনানি কোর্সের ভর্তির ক্ষেত্রে উত্তর প্রদেশের সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলিতে বিস্তর অনিয়ম হয়েছে।
প্রসঙ্গত, নিট উত্তীর্ণ না হওয়া সত্ত্বেও বহু পরীক্ষার্থীর নামে ওই সব সিট বরাদ্দ করে রাখা হয়েছিল। সিট পিছু কয়েক লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে, মোট ঘুষের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা। গুরুতর এই অনিয়মের অভিযোগে নেট উত্তীর্ণরা রাষ্ট্রপতি ও আয়ূষ মন্ত্রকের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিপাকে পড়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকার। কিন্তু কয়েকজন অফিসার কে সাসপেন্ড করা হলেও গা বাঁচাতে সরকারি স্তরে শুরু হয়েছে দায় ঠেলাঠেলির পালা।
নিট উত্তীর্ণদের ভর্তির জন্য যে কাউন্সিলিং বোর্ড তৈরি করেছিল উত্তরপ্রদেশের সরকার, সেইই বোর্ডের মাথায় ছিলেন এস এন সিং। সেই বোর্ডের সদস্য উমাকান্ত যাদবসহ আর ও তিন অফিসার। দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর এই চার অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে যোগী সরকার।
অভিযোগ উঠেছে, প্রথম তালিকায় নাম ছিল ১ হাজার ১৮১ জনের। কিন্তু নিতে পাওয়া তাদের নম্বর অপরিবর্তিত রেখে শুধুমাত্র নাম গুলি বদলে দেওয়া হয়েছে। যোগ্য যোগ্য নিট উত্তীর্ণদের নাম বদলে ঘুষের বিনিময়ে সেখানে ঢোকানো হয়েছে অযোগ্য প্রার্থীদের কোটি কোটি টাকার বিনিময়।
কারচুপি করে মেধাতালিকায় ৯২৭টি এমন নাম ঢুকানো হয়েছে যারা নিজের কাট অফ মার্কসই পায়নি। তাছাড়া এদের মধ্যে এমন ২২ জনের নাম রয়েছে যারা নেট পরীক্ষায় বসেনি পর্যন্ত। সরকারি কলেজে ভর্তির জন্য ঘুষ নেওয়া হয়েছে সিট পিছু প্রায় ৫ লক্ষ টাকা এবং বেসরকারি কলেজের ক্ষেত্রে সেটা ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে উত্তরপ্রদেশে শিক্ষা ক্ষেত্রে এমন কেলেঙ্কারি সামনে আসার ফলে চাপে পড়েছে যোগী সরকার।
