হলো না নাগিন ড্যান্স। বাংলাদেশ বধের মাধ্যমে পয়েন্টস টেবিলের শীর্ষে ভারত।

সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক: হলো না নাগিন ড্যান্স। বাংলাদেশ বধের মাধ্যমে পয়েন্টস টেবিলের শীর্ষে ভারত।

হাড্ডাডি ম্যাচে শেষমেশ বাড়ি ফিরল বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে হারিয়ে পয়েন্টসটেবিল -র শীর্ষে চলে এলো ভারত। পাঁচ রানে জয়লাভ করলো ভারত। 

আজ ছিল টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপের ৩৫ তম ম্যাচ। যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে। 

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেটে বাংলাদেশ টসে জিতে প্রথম বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও টসের সময় রোহিত শর্মা জানিয়ে দেন তিনি জিতলে ব্যাট ই নিতেন। কিন্তু প্রথম ব্যাটিং করতে নেমে ভারতের শুরুটা একদমই ভালো হয়নি। আর্ট বলে দুই রান করে ফিরে যান ভারতের ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মা। অন্যদিকে বিগত কয়েকটি ম্যাচে খারাপ পারফরমেন্সের জন্য যথেষ্ট চাপে ছিলেন সহ অধিনায়ক কে এল রাহুল। কিন্তু চাপের মধ্যে দুরন্ত ব্যাটিং করেন তিনি। ৩২ বলে ৫০ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলেন কে এল রাহুল। 

অন্যদিকে ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক কিং কোহলি আবার ও দুর্দান্ত পারফরমেন্স করল ব্যাট হাতে। আবারও তিনি প্রমাণ করলেন তিনি ই রাজা। প্রথমে কে এল রাহুলের সাথে পরে সূর্য কুমার যাদবের সাথে দুরন্ত পার্টনারশিপ করেন বিরাট কোহলি। 

প্রসঙ্গত, এই বিশ্বকাপে দারুন খেলছেন সূর্য কুমার যাদব। প্রায় প্রতিটা ম্যাচেই তার রান রয়েছে। শুধু যে রান রয়েছে তা নয়, দারুন স্ট্রাইক রেট ও রয়ছে তার। কে এল রাহুল আউট হবার পর মাত্র ১৬ বলে ৩২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে  ভারতের দিকে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন তিনি।

অন্যদিকে প্রাক্তন অধিনায়ক বিরাট কোহলি একদিক ধরে রাখেন। একের পর এক ব্যাটসম্যানরা আউট হলেও তিনি দারুন ফিনিশিং দেন ভারতকে। ৪৪ বলে ৬৪ রান করে অনবদ্য থাকেন কিং কোহলি। শেষ ওভারে রবিচন্দ্র আশ্বিন একটি ছয় ও একটি চার হাকান। যা দেখে দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কুড়ি ওভার শেষে ছয় উইকেট খুইয়ে ১৮৪ রান করে ভারত। 

ব্যাট হাতে বাংলাদেশের শুরুটা দারুন হয়েছিল। প্রথম ওভারে দুই রান আসলেও পরের ওভার থেকে ধোঁয়া ব্যাটিং করতে শুরু করেন লিটন দাস। কিন্তু হুট করে সপ্তম ওভারে বৃষ্টি নামলো অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেটে। তখন বাংলাদেশের স্কোর ৬৬ রানে ০ উইকেট। লিটন দাসের অর্ধশতরান ততক্ষণে কমপ্লিট। তার ইনিংস দেখে মনে হচ্ছিল খুব সহজভাবেই বাংলাদেশ ম্যাচটি জিতে যাবে। কিন্তু বৃষ্টি বাংলাদেশের এই দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। বন্ধ হয়ে যায় খেলা প্রায় আধঘন্টা মতো। 

বৃষ্টি শেষে ডিএলএস মেথড অনুযায়ী বাংলাদেশের সামনে টার্গেট রাখা হয় ১৫১ রান। এবং ওভারের সংখ্যা করা হয় ১৬। কিন্তু সাত ওভার ২ বলে ঘটে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। কে এল রাহুলের ডাইরেক্ট হিটে বাড়ি ফিরতে হয় দুর্দান্ত ফর্মে থাকা লিটন দাস কে। এরপর আর বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পারিনি। ১১ ওভারে তরুণ বলার আর্ষদিপ সিং দুটো উইকেট নিয়ে ম্যাচ কে পুরোপুরি ভারতের মুখে নিয়ে চলে আসেন। এরপরের ওভারে হার্দিক পান্ডিয়া আর একটা উইকেট তুলে নিলে বাংলাদেশের কাছ থেকে ম্যাচ ক্রমশ দূরে যেতে শুরু করে। অবশেষে শেষ ওভারে বাকি ছিল কুড়িটি রান। একটি ছয় ও একটি চার মারলেও পাঁচ রানে জয় পায় ভারত। এখন বিশ্বকাপের দ্বিতীয় গ্রুপে ভারত প্রথম স্থানে রয়েছে। যা ভারতকে সেমিফাইনালের দিকে আরও এক পা সামনে নিয়ে চলে গেল।

 

1 মন্তব্যসমূহ

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম