শুভেন্দু অধিকারী মানসিক অবস্থার ঠিক নেই। গতকাল এমনই মন্তব্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান,“মানসিক অবস্থার ভালো নেই ওর। অভিষেক আতঙ্কে ভুগছে। মনোবিদ দরকার খুব তাড়াতাড়ি”।
পঞ্চায়েত ভোটের প্রাক পূর্বে ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক করেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনিক বৈঠক সেরে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সাংবাদিকদের প্রত্যেকটা প্রশ্নের উত্তর তিনি দেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, “রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সকালে কি বলে রাতে কি বলে তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই। এতদিন আমাকে নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করত, পরে আমার স্ত্রীকে নিয়েও আক্রমণ করত। আর এখন আমার তিন বছরের শিশুকে নিয়েও আক্রমণ করছে। কতটা নির্লজ্জ বেহায়া হলে এরকম করা যায়? সারদায় নারদায় যারা কাগজে মুরে টাকা নিল নির্লজ্জের মত তারা আজ কথা বলছে”?
প্রসঙ্গত, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গত পরশুদিন টুইট করে জানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিন বছরের শিশুর জন্মদিন তাজ হোটেলে রম রমিয়ে পালন হচ্ছে। যদিও, রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কুনাল ঘোষ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়ে দেন, “শুভেন্দু অধিকারী যা বলছে তা ডাহা মিথ্যে।ডায়মন্ড হারবার ফুটবল ক্লাব এক বছরের মধ্যেই কলকাতায় প্রিমিয়ার ডিভিশন লিগ খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ফেলেছে। তাই তার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ফুটবল ক্লাবের খেলোয়াড়দের সাথে উপস্থিত ছিলেন এক অনুষ্ঠানে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা অভিষেক ফোবিয়ায় ভুগছে। তাই এই ধরনের বিকৃত মস্তিষ্ক সম্পন্ন কথা বলছেন”।
উল্লেখ্য, অখিল গিরির মন্তব্য নিয়েও এদিন নিজের এবং নিজের দলের বক্তব্য পেশ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস আগেই জানিয়ে দিয়েছিল যে তারা অখিল গিরির মন্তব্যকে কোনভাবেই সমর্থন করে না। দলের সর্বভারতীয় নেত্রী ও একই কথা বলেছেন। কিন্তু রাজ্যের বিরোধী দলনেতা একজন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে কথা বললেন সে বিষয় কি ক্ষমা চাওয়ার ক্ষমতা আছে ? একজন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনি কি করে বলেন যে তাকে তিনি জুতোর তলায় রাখবেন? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমা চাইবেন না এবার?”।
সাংবাদিকদের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এও জানান,“আমাকে যারা কালিমালিপ্ত করার জন্য নানারকম ভুলভাল কথা বলছে তারা যেন আমার বিরুদ্ধে কোর্টে যায়। আমার বিরুদ্ধে যদি কোন রকম তথ্য প্রমান থাকে তাহলে সেটা বার করতে বলুন। আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি আমার কোন ই ডি সি বি আই লাগবে না। যদি কোন তথ্য প্রমাণ পাও একটা ফাঁসির মঞ্চ করে দেবে, আমি নিজে গিয়ে মৃত্যুবরণ করবো”।

