সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক : তারা ঢুকেছিলেন মুখে হাসি নিয়ে। কিন্তু অধিকাংশই যখন নিয়োগের সুপারিশপত্র নিয়ে বেরিয়ে এলেন, তখন তাদের চোখে জল। কয়েকজনকে তো অঝোরে কাঁদতে দেখা গেল। এই কান্না কষ্টে নয়, আবেগে কাঁদলেন কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষার প্রার্থীরা। মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য সরকার, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষাদপ্তর সহ স্বপ্নপূরণে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁরা বললেন, “মানবিক সরকার।”
সল্টলেকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নতুন দপ্তরে স্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে কর্মশিক্ষা ও শারীর শিক্ষার শিক্ষক নিয়োগের অপেক্ষমান তালিকায় থাকা সকল প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশপত্র তৈরিতে কাউন্সিলিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। প্রথম দিনে কর্মশিক্ষা বিষয়ের ২৭৮ জন পুরুষ প্রার্থীকে ডেকেছিল এসএসসি।
এদিন সকাল দশটায় সেই প্রার্থীরা একে একে ঢুকে যান ভিতরে, প্রায় প্রত্যেকের মুখেই ছিল হাসি। তারপর চিত্রটা ভিতরে ঢুকে বদলে যায়। পছন্দ সহ স্কুল বেছে নেওয়ার পর এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত মজুমদারের হাট থেকে নিয়োগের সুপারিশপত্র নেওয়ার সময় অনেকের চোখ থেকে গড়াল জল। মুখের হাসিটা যদিও মিলিয়ে যায়নি।
এদিন নিয়োগের সুপারিশপত্র পাওয়ার পর কর্মশিক্ষা প্রার্থী এনামুল মিদ্যা বলেন, “আমরা খুবই আনন্দিত, খুশি। বেকারত্বের জীবন থেকে মুক্তি পেলাম। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। জানতাম পাব, কিন্তু সুপারিশপত্র হাতে পাওয়ার পর ভেতরে যে অনুভূতি হল তা মুখে বলে বোঝানো যাবে না। আনন্দে, আবেগে চোখে জল এসে গিয়েছিল।”
বহরমপুরের মিলন মন্ডল বলেন, “খুবই আনন্দিত। এতটাই যে চোখ থেকে জল বেরিয়ে এসেছিল। নিয়োগ পাব সরকারের তরফে সেই সেই নিশ্চয়তাটা আগেই পেয়েছিলাম। একটা ভয় ছিল। সত্যি বলতে সুপারিশপত্র হাতে পেয়েও মাঝে মাঝে অবাক লাগছে। মনে হচ্ছে, পেয়েছি তো?”
এদিন সুপারিশ পত্র পেয়েছেন এবং আগামী দিনের সুপারিশপত্র পাবেন, এমন সকল প্রার্থীই সরকার, মুখ্যমন্ত্রী প্রশংসায় পঞ্চমুখ। মিলন বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমাদের জন্য যা করেছেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। কুনাল ঘোষও আমাদের জন্য যথেষ্ট সাহায্য করেছেন। আন্দোলন চলাকালীন অনেককে পাশে পেয়েছি। তার মধ্যে আমাদের কাছে কুনাল বাবু একটু অন্যরকম। উনি সবসময় আমাদের পাশে থেকেছেন।”
অন্য এক প্রার্থী বলেন, “মানবিকভাবে আমাদের দিকটা দেখার জন্য রাজ্য সরকারকে অসংখ্য ধন্যবাদ।” কর্মশিক্ষায় ও শারীরশিক্ষার প্রার্থীদের আন্দোলনের নেত্রী সাফিয়া খাতুন বলেন, “এতদিনের লড়াই সফল হল। আমরা যে যোগ্য মেধা তালিকাভুক্ত প্রার্থী তা মেনে নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই কুনাল ঘোষকে।”

