গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা অর্জন করতে না পেরে এখন কি তাহলে হিংসার পথ বেছে নেবে বিজেপি? আপাতত এমনই প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।
পঞ্চায়েত ভোটের আগে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে বিজেপি, এমনই অভিযোগ করে আসছে রাজ্যের শাসক দল। আর সেই অভিযোগের স্বপক্ষে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উঠি এলো। বস্তুত রাজ্যে নির্বাচনের পূর্বে একের পর এক বিভিন্ন জায়গা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। আর এইবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারাইপুরে চারটি আগ্নেয়াস্ত্র ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করল পুলিশ। যা নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে গোটা এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত শুক্রবার পুলিশের তদন্তে বারুইপুরের বকুলতলা হাট থেকে এই বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। আগ্নেয়াস্ত্র গুলি কেন মজুদ করা হয়েছে? এবং অস্ত্রগুলো কোথা দিয়ে এসেছে তা তদন্ত করতে ইতিমধ্যে নেমে পড়েছে বারুইপুর পুলিশ।
ইতিমধ্যে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশি জেরায় জানা গেছে, দুই ব্যক্তি সক্রিয় বিজেপি কর্মী। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই অস্ত্রগুলো বিক্রির জন্যই এনেছিল তারা। পুলিশ জানিয়েছে, দুই সক্রিয় বিজেপি কর্মী সভা শেষে এই অস্ত্রগুলো বিক্রি করতো। কিন্তু পুলিশি সক্রিয়তার কারণে দুই বিজেপি কর্মী ধরা পড়ে। তারা এই অস্ত্র কাদেরকে বিক্রি করতো, এই নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে দিয়েছে বারুইপুর বকুলহাট থানা।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ধৃতদের মধ্যে একজনের নাম অজয় কয়াল এবং অপর জনের নাম রাজা গায়েন। তাদের বয়স যথাক্রমে ২১ এবং ২২। পুলিশি জেরায় তারা স্বীকার করে নিয়েছে তারা সক্রিয় বিজেপি কর্মী। যা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা।
ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তথা তৃণমূলের দাপুটে নেতা সয়াকত মোল্লা জানিয়েছেন, দুজনেই বিজেপির দুষ্কৃতি, রাজ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এই ধরনের ঘটনা ঘটাতে চাইছে তারা। এবং তিনি আরও বলেন,বেশ কয়েকদিন আগে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এখানে এসে টাকা পয়সা দিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে পঞ্চায়েত ভোটের আগে রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়ছে।
প্রসঙ্গত ,রাজ্যের বিভিন্ন বিজেপি নেতারা বারবার ডিসেম্বর মাসের কথা উল্লেখ করিয়ে রাজ্য সরকারকে স্পষ্টত হুমকি দিচ্ছে। নবান্ন সূত্রেও বেশ কয়েকদিন আগে জানা যায়, মুখ্যমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভা কে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের জন্য আগাম সর্তকতা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা রাজ্যে বড়সড়ো গন্ডগোল সৃষ্টি করতে চাইছে বিশেষ একটি রাজনৈতিক দল। গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা অর্জন করতে না পেরে এখন কি তাহলে হিংসার পথ বেছে নেবে বিজেপি? আপাতত এমনই প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।

