বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের উপর ক্রুদ্ধ চাকরিপ্রার্থীরা, “রাজনীতির ঘুঁটি হচ্ছি” বক্তব্য হবু শিক্ষকের


সংবাদ বাংলা ডিজিটাল ডেস্ক : ছয় বছরের প্রতিক্ষার পরে সবেমাত্র আশার আলো দেখছিলো চাকরিপ্রার্থীরা। রাজ্যের ধনাত্মক উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছিল কাউন্সিলিং। ১৪০৪ জন হবু শিক্ষক যখন নিয়োগের দোরগোড়ায় তখনই সবকিছু ভেস্তে দিলো হাইকোর্টের হওয়া মামলা। ১ ডিসেম্বর অবধি এই নিয়োগ প্রক্রিয়াতে স্থগিতাদেশ দিলো আদালত। 

এই পুরো ঘটনায় যারপরনাই ক্রুদ্ধ গান্ধী মূর্তির পাদদেশে বসা আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগের তীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের দিকে। যদিও সব অভিযোগকে নাকচ করে পুরোটাই চক্রান্ত বলে দাগিয়ে দিচ্ছেন বিকাশ বাবু। 

দীর্ঘ আন্দোলনের পর সুখবর এসেছিল শারীরশিক্ষা এবং কর্মশিক্ষা বিষয়ক চাকরিপ্রার্থীদের জন্য। ঘোষণা করা হয়েছিলো কাউন্সিলিং এর দিনক্ষণ। আর ঠিক সেই সবকিছু সম্পূর্ণ ঘুরে গেলো আদালতের হওয়া নতুন মামলার ফলে যার রায়ে স্থগিতাদেশ বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। 

ওয়েটিং লিস্টে থাকা অপেক্ষামান চাকরিপ্রার্থীদের দ্রুত ব্যবস্থা করতে নিউমেরারি পদ বা অতিরিক্ত পদ তৈরি করেছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন। ১৪০৪ হবু শিক্ষকের জন্য ১৬০০ পদ তৈরি করা হয়েছিলো। সেই পদ তৈরির পদ্ধতিকেই বেআইনি বলে মামলা হয়েছে আদালতে। 

মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের দাবি এই পদ সম্পূর্ণ বেনিয়োমের সাথে তৈরি করা হয়েছে। এই পদ তৈরির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। 

যদিও বিকাশ বাবুর এই ব্যবহারে ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা। এতদিন যাকে উদ্ধারকর্তা মনে করছিলেনে তার বিরুদ্ধে আজ সুর চড়াচ্ছে তারা তাদের বক্তব্য, “আমাদের ক্ষোভ থাকাটাই স্বাভাবিক। যারা এতদিন লড়াই লড়লেন , আমাদের পাশে থাকলেন, আমাদের মঞ্চে গেলেন , কেন তারা এমন আচরণ করছেন সেটাই তো বুঝতে পারছি না। মনে হচ্ছে আইনের অপব্যবহার কিছু একটা করতে চাইছেন। এটা না করলেই ভালো হতো।”

বৃহস্পতিবার চাকরিপ্রার্থীরা এতোটাই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন যে তারা সোজা সিপিআইএম এর রাজ্য দফতর আলিমুদ্দিনের সামনে উপস্থিত হোন তারা। একজন চাকরিপ্রার্থী বলেন , “মনে হচ্ছে রাজনীতির ঘুঁটি হচ্ছি”। সবমিলিয়ে আদালতে স্থগিতাদেশ নিয়ে বাংলার রাজনীতিতে রিতিমত আলোড়ন পড়ে গেছে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম